গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে তুবা ইসলাম তোহা নামে ১০ মাসের এক কন্যা শিশু মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে বিষয়টা জানাজানি হয়।
এর আগে গত ২৭ মার্চ দুপুর ঢাকার মালিবাগের বিএনকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু তুবা মারা যায়। সে মুকসুদপুর উপজেলার হোগলাডাঙ্গা গ্রামের তুহিন শেখের মেয়ে।
এদিকে, শিশু মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর এলাকায় এক ধরনের ভীতি ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে গোপালগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে নড়াচড়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা তোহার চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্ট ও উপসর্গ নিয়ে কেসস্ট্রাডি তৈরি করছেন।
তোহার মা নাজমা বেগম বলেন, হঠাৎ গত ১৯ মার্চ তার তুবার জ্বর দেখা দেয়। এর পরের দিন ২০ মার্চ জ্বরের সঙ্গে হালকা শ্বাসকষ্ট হওয়ায় তাকে মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু কোন পরিবর্তন না হওয়ায় ২৪ মার্চ স্থানীয় সেবা ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. কামাল হোসেনের কাছে নিয়ে যান। তার পরামর্শে চিকিৎসা চলে এর মধ্যে তুবার জ্বর, শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে সারা শরীরের হাম দেখা দেয়। পরে ২৬ মার্চ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে মুকসুদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হলে গত ২৭ মার্চ রাজধানীর মালিবাগের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
টেংরাখোলা ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারি খোরশেদা মল্লিক ডলি জানান, জন্মের পর থেকে শিশুটিকে রুটিন করে টিকা দেওয়া হয়। গত ২৫ মার্চ শিশুটিকে হামের টিকা দেওয়ার জন্য বাড়িতে গেলে শিশুটির মা নাজমা বেগম জানান,তার সন্তান অসুস্থ। তাই টিকা না দিয়ে ২৫ এপ্রিল আবার আসবেন বলে জানান। পরে জানতে পারি শিশুটি মারা গেছে।
মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের টিএইচঅ্যান্ডএফপিও ডা. রায়হান ইসলাম শোভন জানান, শিশুটিকে জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২০ ও ২৬ মার্চ হাসপাতলের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আনেন স্বজনরা। ২৬ মার্চ শিশুটির অবস্থা সংকটপন্ন হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়। শুনেছি সেখান থেকে ঢাকা পাঠানো হয় এবং ২৭ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ডিজি অফিস থেকে শিশুটির মৃত্যুর তথ্য চাওয়া হয়েছে। যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে পাঠানো হয়। ডিজি অফিস পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আমাদের অবহিত করলে সেই মোতাবেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।