কাজ করতে করতে আসে ক্লান্তি। আর কাজের ক্লান্তি দূর করতে চাই ছুটি। ছুটি শেষ করে আবার কাজে ফিরে আসতে হয়। এ সময় আবার কাজে মনোনিবেশ করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই কঠিন কাজটি সহজ করার জন্য রইল দশ পরামর্শ।
তবে এটা মেনে নিতেই হবে, অফিসে যোগ দেওয়ার দিন থেকেই কাজের গতি আগের মতো হবে না। একটু সময় নেবে। তবে দ্রুত গতি বাড়াতে হবে। এটাই পেশাদারিত্ব। বেশি আপসেট হবেন না।
নিজের পাশাপাশি অন্যদের কথাও ভাবুন। কাজে মনঃসংযোগ করা না গেলে শুধু নিজেরই নয় প্রতিষ্ঠানেরও অনেক ক্ষতি হয়। সহকর্মীরাও প্রভাবিত হয়। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অফিসে মনঃসংযোগ বাড়ানো একটি ভীষণ জটিল প্রক্রিয়া।
মানসিক চাপে থাকলে যেমন কাজে মনঃসংযোগ ঘটানো মুশকিল। কাজের চাপ খুব কম থাকলেও মনঃসংযোগ ঘটানো মুশকিল। তাই ছুটি থেকে ফিরে এসেই কাজ শুরু করার আগে একটা কাজের তালিকা তৈরি করে ফেলুন। তারপর একের পর এক কাজগুলো করতে শুরু করুন।
ছুটি থেকে ফিরে এসে অনেক সময় কাজ খুঁজে পাওয়াও মুশকিল হতে পারে। সেক্ষেত্রে বসের সাহায্য নিন। তবে একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ না করা ভালো। এতে কোনো কাজেই ঠিকমতো মনোনিবেশ করা যায় না।
তাতেও যদি কাজে মন না বশে তাহলে কারণগুলোর একটা তালিকা করুন। কারণগুলোকে ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ থেকে ‘সবচেয়ে দূর্বল’ ক্রমানুসারে সাজান। এবার ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ কারণগুলো কীভাবে সমাধান করা যেতে পারে তার সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করুন। এবং সে অনুসারে এগিয়ে যান।
কাজ শুরু করে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা কমিয়ে দিন। কী করে ছুটি কাটালেন এই নিয়ে গল্প হতেই পারে, তবে আগে কাজে মনটা বসে যাক তারপর সব গল্পই হবে।
অনেকেই অফিসে ঢুকেই প্রথমে শেয়ার বাজারের ওয়েবসাইট বা ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট বা ফেসবুকে লগইন করেন। তারপর অফিসের মেইল বক্স ওপেন করেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে কিছুক্ষণ শেয়ার দর, কিছুক্ষণ খেলার স্কোর বা ফেসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট করেন। জরুরি সময়ে এ জাতীয় সব ধরনের কাজ থেকেই বিরত থাকুন। এই বিষয়গুলো সাধারণত কাজে মনঃসংযোগে বাধা তৈরি করে।
একান্ত গুরুত্বপূর্ণ না হলে কয়েকটা দিন সামাজিক যোগাযোগ থেকে দূরে থাকুন। প্রথম কয়েকটা দিন স্রেফ কাজ নিয়েই ডুবে থাকুন।
মাঝে মাঝেই কাজে বিরতি নিন। ছোট ছোট ব্রেক। চা খান। বা একটু পেপার পড়ুন। আবার কাজে ফিরে যান। নিজের ওপর খুব চাপ নেবেন না।
গুরুত্ব অনুসারে কাজের তালিকা তৈরি করে চোখের সামনে ঝুলিয়ে রাখুন যাতে বারবার আপনার মনে হয় আপনার এখনো অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা বাকি। ফলে কাজের সময় কাজ ছাড়া অন্য কিছুতে মনোনিবেশ করা যাবে না।
মনঃসংযোগে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মন, তেমন কোনো কিছু পেলেই সমাধানে তৎপর হোন। যত দেরি করবেন ততই এর প্রভাব গাঢ় থেকে গাঢ়তর হতে থাকবে।