ডিসি শাহজাহানের 'বাদীই যখন আসামী' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহজাহান হোসেনের ‘বাদীই যখন আসামী’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন  করা হয়েছে। সোমবার (৩০মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রহমান হলে বইটির মোড়ক উম্মোচন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আদি প্রকাশনীর স্বত্বাধীকারী। 

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার অতিরিক্ত আইজিপি মো. সারওয়ার, অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামাল ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) এস, এন, মো. নজরুল ইসলামসহ ঊধ্বর্তন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন নর্দান ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মিজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম সোহাগ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বইটি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন লেখক ডিসি মো. শাহজাহান হোসেন বলেন, বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত হত্যা মামলা, বরিশালের সাইফুল হত্যি মামলা এবং চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত মিতু হত্যা মামলার প্রেক্ষাপট নিয়ে বইটি রচিত। বইটিতে আইনগত উপাদান ও ভিত্তি হিসেবে পিআরবি, সিআরপিসি, ৫৫ ডিএলআর ও ৭০ডিএলআর সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। আটটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত ‘বাদীই যখন আসামি’ বইটি যাদের জন্য প্রযোজ্য বলে মনে করেন লেখক। তারা হলেন- বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা, পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত ও অফিসার ইনচার্জ, জোনাল এবং সার্কেলের এএসপি ও অতিরিক্ত এসপি, জেলা ও ডিভিশনাল এসপি ও ডিসি এবং অন্যান্য তদারকি কর্মকর্তার জন্য।

এ সময় আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, 'বাদীই যখন আসামী'-আমরা বুঝতেই পারছি আসলে সব জায়গায় কিন্তু নৈতিকতার প্রশ্নটাই এসে যায়। যখন একটা মিথ্যা মামলা করা হয়, তখন বাদীই কিন্তু আসামী হয়ে যায়। পুলিশের একটা সেকশন আছে... যেখানে মিথ্যা মামলার বাদিকেই আসামি করা যায়। এখানে একটা বিশাল নৈতিকতার প্রশ্ন, আমি একটা মামলা বললাম যে জিনিসগুলা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাদী মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কাউকে হয়রানি করতে চাচ্ছে। তদন্ত শেষে বাদী আসামি হয়ে যাচ্ছে। তো এখানে ওই লোকটার যদি নৈতিকতা বিন্দুমাত্র থাকে, তাহলে কিন্তু এই জিনিসটা হতো না। এর মাঝে অনেক সময় চলে যাচ্ছে। পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সময় যাচ্ছে। একটা যে ভালো কাজ করার সুযোগ ছিল, সেটা থেকে ওই সময়টা চলে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সর্বক্ষেত্রে নৈতিকতার যে চর্চা, সেটা থেকে দূরে চলে গেছি। যার কারণে এই ধরনের সমাজে মিথ্যা মামলা বলেন, মিথ্যা অভিযোগ বলেন, বা একে অপরের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার...। অপরের পরনিন্দা করা কিন্তু একটা খুবই খারাপ কাজ। এটা কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মাফ করবেন না-ওই যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরনিন্দা করা হয়েছে সেই ব্যক্তি যদি মাফ না করলে। এরকম অনেক কিছুই আমরা জানি।

অনুষ্ঠানে বলা হয় ‘বাদীই যখন আসামী’ বইয়ের মূল বক্তব্য হলো- পিআরবি ২৭৫ বিধি, সিআরপিসির ধারা-১৭৩, ৫৫ ডিএসআর এবং ৭০ ডিএনআর-এর ভিত্তিতে কোন মামলায় সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং পারিপার্শ্বিকতার ভিত্তিতে যখন কোন বাদী আসামী হিসেবে পরিগণিত হবে। তখন একই মামলাতে বাদীকে আসামী হিসেবে গণ্য করে পুলিশ রিপোর্ট বা অভিযোগ পত্র দাখিল করতে হবে। এতে করে একদিকে বাদী, সাক্ষী ও আসামির হয়রানি বন্ধ হবে অন্যদিকে পুলিশ, আদালত ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের পরিশ্রম কমবে এবং রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় রোধ করা যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলেন, বইটি পড়লে পাঠকের ধারণাগত পরিবর্তন হতে পারে- বাদী আসামী হলে প্রথম মামলা ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে পুনরায় একটি মামলা রুজু করা হয় বর্তমান প্রাক্টিস। তবে একই মামলাতে বাদীকে আসামী করে তদন্ত প্রতিবেদন বা অভিযোগপত্র দাখিল করা সঠিক আইনগত ব্যবস্থ্য।