নতুন পরীক্ষার সামনে আফঈদারা

অস্ট্রেলিয়ায় গত মাসে এশিয়ান কাপের বিশাল অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলের। চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও অভিষেকে বাংলাদেশের মেয়েদের খেলা কিছুটা হলেও প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এশিয়ার সেরা মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করাই ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি। ফলাফলটা ছিল গৌণ। তবে আজ থেকে থাইল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে বাংলাদেশকে ঘিরে প্রত্যাশা একটু বেশি। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে শেষ কয়েক বছর ভালো ফলাফলের কারণেই অনেকে বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে দেখার প্রত্যাশা জানিয়েছে। তবে এখানেও সাবধানী থাকতে চাচ্ছেন ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার। আজ স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে তার শিষ্যরা। এ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ শক্তিশালী চীন ও ভিয়েতনাম। তিন ম্যাচে নিজের সামর্থ্যরে বেশিটা দিতে পারলে শেষ আটের লক্ষ্য পূরণ অসম্ভব নয় আফঈদা খন্দকারদের জন্য। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় পাথুমথানির থামাসাত স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি।

এশিয়ার সেরা ১২ দল তিনভাগে বিভক্ত হয়ে খেলবে গ্রুপপর্ব। তিন গ্রুপের সেরা ছয় দল এবং সেরা দুটি তৃতীয় স্থান পাওয়া দল যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সে হিসেবে বাংলাদেশের সুযোগ একেবারে নেই সেটা বলা যাবে না। বাটলার অবশ্য বড় স্বপ্ন দেখাতে চাচ্ছেন না। বরং দলের তরুণরা আরেকটি বড় আসরে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন, এটাকেই বড় করে দেখছেন কোচ, ‘আমরা মাত্রই সিনিয়র এশিয়ান কাপ শেষ করে এখানে এসেছি। আমাদের সঙ্গে অনেক তরুণ খেলোয়াড় এসেছে যাদের জন্য এটি প্রথম অভিজ্ঞতা। এখানে আসতে পারাটা তাদের জন্য অনেক বড় অর্জন এবং আমি আশা করি এটি মেয়েদের জন্য একটি চমৎকার শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা হবে।’

বাটলার এই দলে সুযোগ পাওয়া ১০-১২ জন ফুটবলারকে অস্ট্রেলিয়া মূল দলের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। আফঈদার মতো অনেকে তিন ম্যাচেই খেলারও সুযোগ পেয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লাগবে দাবি করে বাটলার বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-২০ দলের ১০-১২ জন তরুণ খেলোয়াড়কে সিনিয়র এশিয়ান কাপে নিয়েছিলাম কারণ তারা জাতীয় দলের কার্যক্রমের সঙ্গেই ছিল। আমরা কিছু ম্যাচে হেরেছি ঠিকই, তবে এই যাত্রায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয় উঠে এসেছে। আমি সবসময় এই তরুণীদের নিজেদের সেরাটা দেওয়ার এবং অকৃত্রিম থাকার ওপর জোর দিয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এএফসি এবং সাফের মান সম্পূর্ণ আলাদা। এফসি-ই হলো সেই জায়গা যেখানে আপনি খেলতে চাইবেন সেটি সিনিয়র হোক বা অনূর্ধ্ব-২০ দল।’ থাইল্যান্ডের প্রশংসা করে বাটলার নিজেদের সেরাটা দেওয়ার কথাই বলেছেন, ‘থাইল্যান্ডে ভালো মানের মাঠ, প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা এবং খেলার দারুণ পরিবেশ রয়েছে। তাদের ফুটবলের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে এবং তারা নারী দলের প্রতি খুবই সমর্থনশীল। আমি চাই বাংলাদেশও তাদের নারী ফুটবল দলের প্রতি আরও বেশি সহায়ক হোক এবং আরও গুরুত্ব দিক, কারণ এখানে সম্ভাবনা বিশাল। আমি শুধু আশা করি মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দেবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল খেলবে। আমার মনে হয় সিনিয়র জাতীয় টুর্নামেন্টে তারা যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা আমাদের ভালো অবস্থানে রাখবে। আশা করি ফলাফলের কথা চিন্তা না করে আমরা কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখতে পাব।’ ৪ এপ্রিল চীন ও ৭ এপ্রিল ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আজ পয়েন্ট পাওয়া হবে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন।