ফুটবল বিশ্বে আবারও এক অবিশ্বাস্য ট্র্যাজেডির জন্ম দিল ইতালি। কন্টিনেন্টাল ফুটবলে (ইউরো) দাপট দেখালেও বিশ্বমঞ্চের টিকিট কাটতে গিয়ে বারবার খেই হারিয়ে ফেলছে তারা। বসনিয়ার জেনিকার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে হার মেনে ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের স্বপ্ন বিসর্জন দিল গেন্নারো গাত্তুসো’র শিষ্যরা।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে ময়েস কিনের গোলে লিড নিয়ে ইতালি যখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই ছন্দপতন। ৪১ মিনিটে অমর মেমিচকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইতালিয়ান ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইতালিকে এরপর থেকেই চেপে ধরে স্বাগতিক বসনিয়া। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে হ্যারিস তাবাকোভিচ গোল করে ১-১ সমতা ফেরালে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যনির্ধারণী পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে ইতালির জন্য অপেক্ষা করছিল চরম লজ্জা। প্রথম পেনাল্টিটি গোলবারের ওপর দিয়ে মারেন পিয়ো এসপোসিটো। এরপর ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে গোলপোস্টে বল মারলে ইতালির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। অন্যদিকে, বসনিয়ার ইসমির বাজরাক্তারেভিচ শেষ শটে দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করতেই ইতিহাস গড়ে ফেলে বসনিয়া।
ম্যাচ শেষে দৃশ্যত ভেঙে পড়া কোচ গাত্তুসো বলেন, "ছেলেরা এই হারের যোগ্য ছিল না। তারা হৃদয় দিয়ে খেলেছে। এই ধাক্কা হজম করা আমাদের জন্য খুব কঠিন।" তবে ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা জানিয়েছেন, গাত্তুসোকে তিনি দায়িত্বে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন এবং তিনি নিজেও পদত্যাগ করছেন না।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইতালিই প্রথম দল যারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর টানা তিনটি আসরে (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হলো। ২০১৮ সালে সুইডেন এবং ২০২২ সালে উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে প্লে-অফে হারের পর এবার বসনিয়া তাদের নতুন দুঃস্বপ্ন উপহার দিল।
২০১৪ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল আসরে জায়গা করে নিল বসনিয়া। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর হাজারো সমর্থক মাঠে নেমে উল্লাসে মেতে ওঠেন। বসনিয়া এখন সরাসরি জায়গা করে নিয়েছে গ্রুপ ‘বি’-তে, যেখানে তাদের লড়তে হবে আয়োজক দেশ কানাডা, সুইজারল্যান্ড ও কাতারের বিপক্ষে।
ইতালির এই পতন বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে কাঠামোগত সংস্কার এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। জায়ান্টদের এই বিদায় ফুটবল ভক্তদের জন্য এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করল।