ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে পৃথক ৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরো ৪ জন।
বুধবার (১ এপ্রিল) ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে দাউদকান্দি, চান্দিনা, বুড়িচং ও চৌদ্দগ্রাম এলাকায় দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। হাইওয়ে পুলিশের বিভিন্ন থানার কর্মকর্তারা নিহত ছয়জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে হতাহতদের সবার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন— দাউদকান্দি উপজেলার সরকারপুর গ্রামের মৃত লতু মিয়ার ছেলে বারেক (৪২) ও নুর ইসলামের ছেলে মোস্তফা (৪০)। তারা দুজনই অটোরিকশাচালক ছিলেন। এছাড়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম (মইন) (২৭), মেহেরপুর সদর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের সোহেল রানা (৩৫), চান্দিনা পৌরসভার রাড়িরচরের বাসিন্দা ও নবম শ্রেণির ছাত্র ইবনে তাইম (১৪) এবং নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের ওমর ফারুক (৩৯) নিহত হয়েছেন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন— নবীর হোসেন (৩৮), কাওসার (৪০), ইসমাইল (৩৭) ও সাগর মিয়া (৩৫)। তাদের কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, ভোরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চালকসহ ছয়জন চাঁদপুরের মতলব উত্তর থেকে মেলা শেষে ফিরছিলেন। পথে দাউদকান্দির কানড়া এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে অটোরিকশাটি উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বারেক ও মোস্তফা নিহত হন এবং আরও চারজন আহত হন।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মমিন বলেন, ভোর পৌনে ৪টার দিকে নিমসার বাজার এলাকায় ঢাকা-মুখী লেনে একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় দুই চালক— জহিরুল ইসলাম ও সোহেল রানা, ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন আরও একজন।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চান্দিনার কাঠেরপুল এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় লরির চাপায় নবম শ্রেণির ছাত্র ইবনে তাইম নিহত হয়। ঘাতক লরিটি জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মিয়া বাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাব উদ্দিন বলেন, ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে চৌদ্দগ্রামের গাংরা এলাকায় বিকল হয়ে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানকে পেছন থেকে আরেকটি কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা দিলে চালক ওমর ফারুক নিহত হন। তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং যানটি জব্দ করা হয়েছে।