সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট

জাতীয় সংসদে ‘গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে দেওয়া নোটিশের প্রতিকার না পাওয়ায় অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল।

বুধবার (১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশের ৬ষ্ট দিন প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর ফ্লোর নিয়ে অনির্ধাতি আলোনায় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারের কাছে প্রতিকার দাবি করে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।

অনির্ধিারিত আলোচনায় সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, উনি তার বক্তব্যে আমাকে একটু সম্ভবত খেয়াল করেন নাই ভালো করে আমার কথাটা। আমার তাই মনে হয়েছে। ইনটেনশনালি উনি বলেছেন আমি এটা বিশ্বাস করতে চাই না। আমি যা বলেছি সেটার বাইরে গিয়ে একটা প্রশ্ন গতকাল করেছেন। গতকাল যে এজেন্ডাটা আমরা উত্থাপন করেছিলাম এটা ছিল মূলত গণভোট এবং গণভোটের সংস্কারের যে প্রস্তাব। এর আলোকে যে পরিষদটা গঠন হওয়ার কথা সেই পরিষদের সভা আহ্বান সংক্রান্ত। এটাই ছিল মূল নোটিশের বিষয়।

'এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রস্তাবে আমার বক্তব্যে আমি রেসপন্স দিতে গিয়ে বলেছিলাম যে যেহেতু আলোচনাটা হয়েছে সংস্কার পরিষদের ওপর, যদি এইটাকে কেন্দ্র করে কোনও কমিটি বিশেষ কমিটি গঠন হয় তাহলে আমরা ইতিবাচকভাবে সেটা ভেবে দেখব। এবং একই সাথে বলেছিলাম যে সেখানে সরকারি দল এবং বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিলে এটা অর্থবহ একটা কমিটি হিসেবে রূপ নেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। যেহেতু আমরা এখানে এসেছি সংকট নিরসনের জন্য, সংকট তৈরির জন্য না, বলেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, উত্তরে তিনি তার কথা বলেছেন। আমার বক্তব্য যেহেতু আগে হয়ে গেছে বিষয়টি আমি ক্লারিফাই করলাম। কিন্তু যেহেতু এটা জন-আকাঙ্ক্ষার বিষয়, গণভোটের বিষয়, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ের বিষয়, আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম যে আপনার মাধ্যমেই প্রতিকার পাব এবং সিদ্ধান্তের জন্য আমি আপনাকে আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্ত হলো কি না আমি বুঝতে পারি নাই। এই বিষয়টা আপনার কাছ থেকে আমি স্পষ্ট জানতে চাই।

এ সময় স্পিকার বলেন, কালকের প্রস্তাবটি ছিল একটি মুলতবি প্রস্তাব। যেটি আমার অনুপস্থিতিতে গৃহীত হয়েছিল। বাংলাদেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে মাত্র ৩টি মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। একটি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর, অপরটি ছিল গ্রেনেড হামলা সম্পর্কিত এবং আরেকটি ছিল নূর ইসলাম মনির কোস্টগার্ড সম্পর্কিত। বছর পর বছর চলে যায় কোনও মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয় না সংসদে। তারপরও প্রাণবন্ত আলোচনার জন্যে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে মুলতবি প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছিল। আপনি জানেন যে যেই সমস্যার সমাধান আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই কেবল করা যেতে পারে সেটি নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব হতে পারে না। তারপরও উদারভাবে বিরোধী দলকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্যে এটি গ্রহণ করা হয়েছে। আরও একটি আমি বলতে চাই এই সম্পর্কিত আরও একটি নোটিশ, আরও একটি মুলতবি প্রস্তাবের নোটিশ আজকে আমরা বিবেচনা করব।

'আপনাদের মধ্যে যদি কোনও কথা বলার বাকি থাকে আমি বলেছিলাম যে বাকি কথা হলে আগামীকাল হবে। আজকেও আপনারা যদি প্রয়োজন হয় সেই নোটিশটি সম্পর্কে যখন আলাপ-আলোচনা করবো, আপনাদের আরও যদি বক্তব্য থাকে কথা বলার অবারিত সুযোগ আপনারা পাবেন। এটি একটি জাতীয় সমস্যা যত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে আমরা আশা করি ট্রেজারি বেঞ্চ এবং বিরোধী দল মিলে খোলাখুলিভাবে কথাবার্তা বলে সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনার মাধ্যমে আপনারা সিদ্ধান্ত নিবেন সেই সুযোগ আপনাদের রয়েছে। এটি মহান হাউজ অফ দ্য পিপল। আপনারাই ডিসাইড করবেন রুলস অফ প্রসিডিউর অনুসারে আমরা যাতে পরিচালিত হতে পারি।'

স্পিকারকে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘প্রতিকার চেয়েছিলাম। এ বিষয়টা কোনও দলের সাথে সম্পর্কিত না। যে বিষয়টা নির্বাচনের আগে সরকারি দল বিরোধী দল সবাই একমত হয়েছিলেন এর সপক্ষে কোথাও বলেছেন ক্যাম্পেইন করেছেন। আমরা প্রতিকার যে পেলাম না এতে আমরা না এতে দেশবাসীর তাদের রায়ের প্রতিফলন হলো না মূল্যায়ন হলো না। আমরা বিরোধী দলে বসে এই অবমূল্যায়ন আমরা মেনে নিতে পারি না একারণে তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।’

এতে স্পিকার বলেন, আপনি আমার বক্তব্য তো সম্পূর্ণ করতে দিলেন না। আমি আপনার পুরা বক্তব্য শুনেছি। আপনারা ওয়াকআউট করা আপনাদের অধিকার কিন্তু আমি বলতে চাই যে আজকে একটু পরে আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচিত হবে। সেখানে আমার মনে হয় যে আপনি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন এবং সেখানে মন খুলে আপনারা আরও কথা বলতে পারবেন। সুতরাং আমার অনুরোধ হলো আপনারা ওটা শুনেন তারপর যদি ওয়াকআউট করতে পান প্লিজ ফিল ফ্রি। আগে প্রস্তাবটির ভাগ্য কি নির্ধারণ হয় সেটি আপনি দেখার জন্য একটু অপেক্ষা করে দেখতে পারেন। বিরোধী দলের নেতাকে মাইক দেন।

স্পিকারের এই কথার পর বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, নোটিশটাও আমাদের নজরে আগে কিছুটা এসেছে। এবং আমরা মনে করি যে মূল নোটিশকে চাপা দেওয়ার জন্য ঐ নোটিশটা সামনে আনা হয়েছে। একারণে দুইটার প্রতিবাদেই আমরা এই সংসদ থেকে আপাতত ওয়াকআউট করছি।

স্পিকার বলেন, নোটিশই তো উত্থাপন হয় নাই আপনি কি করে বুঝলেন কোনটা চাপা দেওয়ার জন্য এটা করা হচ্ছে? আমি অনুরোধ করছি একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন নোটিশের বিষয়বস্তু শুনেন তারপর আপনারা ফিল ফ্রি টু ওয়াকআউট। মাননীয় স্পিকার আপনার অ্যাবসেন্সে এই হাউসে এই নোটিশটা পড়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সদস্য এটা পড়েছেন আমরা শুনেছি। এ কারণে আমরা বুঝে শুনেই বলছি যে এই দুই কারণেই আমরা এখন ওয়াকআউট করছি। স্পিকার বলেন, নিশ্চয়ই সংসদীয় রীতি অনুযায়ী আপনারা ওয়াকআউট করতেই পারেন ফিল ফ্রি।