এমরান কবিরের কবিতা

সূক্ষ্ম রেখায়

হয়তো দিনপঞ্জিতে বসে থাকি

তুমি আসো, আমাদের না-আসা বেবিটাও আসে।

লাল আর নীল তারিখের মাঝখানে

যে সূক্ষ্ম রেখা, সেখানে

ছোট্ট একটা চাঁদ ওঠে

 

না-আসা বেবিটা সে-দিকে তাকিয়ে থাকে

চাঁদটা হোঁচট খেয়ে লুকিয়ে পড়ে

কালো দাগের ফাঁকে

 

লালে নীলে আর কালোতে

কখন যে জট লাগে

বোঝা যায় না এক জীবনের বাঁকে

অর্থহীন জলে, কাজলে

 

বিনে পয়সার অর্থময় জল

নেবে?

কালো নয়, নীল নীল রঙিন

নক্ষত্র-নদীর মতো

আসে যায়, কখনো ভেজে

কখনো ভেজায়

 

তবে কি কাজল!

না, নীল নীল আভার ভেতর

গুপ্ত চোখের জল!

 

নেবে?

বিনে পয়সার অর্থহীন জল?

অথবা কাজল?

জীবন ছেঁচে ছেঁচে মরণের ফল!

জীবন-১

 

দূর ব্যাসার্ধে যাই

প্রাচীর টপকে, সূক্ষ্ম দড়ি বেয়ে

... তারপর পড়ে যাই

 

প্রাচীর টপকে, সূক্ষ্ম দড়ি বেয়ে

আবার উঠে আসি

দেখি

বৃত্ত নেই, কেন্দ্র নেই, ব্যাসার্ধ নেই...

 

পড়ে আছে কতিপয় মরণ সৌন্দর্যের পুষ্প

জীবন-২

 

ভেবেছ চলে যাব?

যাব না

চুমুও খাব না

শুধু রয়ে যাব দূরে

 

এসে পড়ব

হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া মধ্য দুপুরে

 

রাত্রি চলে না, সন্ধ্যেটাও অদূরে

সকাল বিকাল অষ্টপ্রহরে

মাঝে মাঝে দেখা দেবে গভীর অনুতাপ

ভেবে নিও

তখনই পড়ে থাকবে আমার পায়ের ছাপ

 

দেখা হবে দূর ব্যাসার্ধে, যেখানে

জীবন জ¦লে ওঠে মরণ-পুষ্পের ঘ্রাণে