১ কোটির বিনিয়োগে ৪ কোটির পারফরম্যান্স: দিল্লির ‘জ্যাকপট’ সামির রিজভী

লক্ষ্ণৌতে বুধবার রাতে দিল্লি ক্যাপিটালস যখন ২৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি দিল্লির হাত থেকে ফসকে গেছে। কিন্তু সামির রিজভী যেন অন্য কিছু ভেবে রেখেছিলেন। ৪৭ বলে ৭০ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে শুধু জয়ই উপহার দেননি, বরং ১৭ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের দাপুটে জয় নিশ্চিত করেছেন। আর এই ইনিংসের মাধ্যমেই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অর্থনৈতিক সমীকরণে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

২০২৫ সালের মেগা নিলামে দিল্লি ক্যাপিটালস সামির রিজভীকে কিনেছিল মাত্র ৯৫ লাখ রুপিতে। আইপিএলের ১৪টি ম্যাচের হিসেবে প্রতি ম্যাচে তার পেছনে দিল্লির খরচ প্রায় ৬.৭৯ লাখ রুপি। কিন্তু বুধবারের ম্যাচে তিনি যে ‘ইমপ্যাক্ট’ তৈরি করেছেন, তার আর্থিক মূল্য বের করলে চোখ কপালে ওঠার দশা।

ক্রিকেটীয় মডেল অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দলকে জেতানো, অপরাজিত থাকা এবং চাপের মুখে ইনিংস গড়ার মানদণ্ডে সামির রিজভীর সেই রাতের পারফরম্যান্সের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৯.৫৭ লাখ রুপি। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ রুপি বিনিয়োগের বিপরীতে তিনি দিল্লিকে ৪৩৬ টাকার ক্রিকেটীয় রিটার্ন দিয়েছেন। এই হিসেবে যদি ১ কোটি রুপি বিনিয়োগ করা হতো, তবে সামির ের পারফরম্যান্সের রিটার্ন ভ্যালু দাঁড়াত ৪.৩৬ কোটি রুপি!

সামিরের সেই এক রাতের পারফরম্যান্স থেকে দিল্লির অর্জিত ‘প্রফিট-ভ্যালু’ ছিল ২২.৭৯ লাখ রুপি। সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে বলা যায়, এই টাকায় ভারতের বাজারে ১৬টি আইফোন ১৭ প্রো কেনা সম্ভব। এমনকি একটি হুন্দাই ক্রিয়েটা এন লাইন গাড়ি কেনার পরেও হাতে থেকে যাবে প্রায় ৫ লাখ রুপি!

দিল্লি ক্যাপিটালস সামির কে দলের মূল তারকা বা ‘পোস্টার বয়’ হিসেবে কেনেনি। তাকে কেনা হয়েছিল কঠিন সময়ে দলের হাল ধরার জন্য। লক্ষ্ণৌতে যখন টপ অর্ডার ভেঙে পড়েছিল, তখন ট্রিস্টান স্টাবসের সাথে ১১৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে সামির প্রমাণ করেছেন তিনি দিল্লির জন্য এক ‘প্রিমিয়াম অ্যাসেট’। তার ব্যাটিং ছিল আক্রমণাত্মক অথচ সুশৃঙ্খল, যা লক্ষ্ণৌকে ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগই দেয়নি।

দিনশেষে সামির রিজভীর অপরাজিত ৭০ রান কেবল দিল্লির পয়েন্ট টেবিলে ২ পয়েন্ট যোগ করেনি, বরং ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের জন্য এটি ছিল এক বিশাল অর্থনৈতিক বিজয়। ১ কোটির বিনিয়োগে ৪ কোটির বেশি মূল্যের পারফরম্যান্স—একে ‘জ্যাকপট’ ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়!