এনদ্রিক, থিয়াগো নাকি নেইমার: আনচেলত্তি শেষপর্যন্ত কাকে নেবেন বিশ্বকাপে?

বিশ্বকাপের আর মাত্র মাসখানেক বাকি। আগামী ১৮ মে কোচ কার্লো আনচেলত্তি ঘোষণা করবেন ব্রাজিলের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড। কিন্তু সেই তালিকার শেষ দুটি জায়গার জন্য এখন শুরু হয়েছে ত্রিমুখী লড়াই। একদিকে অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে ফেরার অপেক্ষায় নেইমার, অন্যদিকে উদীয়মান বিস্ময় বালক এনদ্রিক এবং শক্তির বিচারে নজর কাড়া ইগর থিয়াগো। কার হাতে উঠবে স্বপ্নের সেই টিকিট?

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম 'ও গ্লোবো' এবং ফিফার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনচেলত্তি আক্রমণভাগে ভিনিসিয়াস, রদ্রিগো এবং রাফিনিয়াদের জায়গা নিয়ে নিশ্চিত। কিন্তু স্কোয়াডে ভারসাম্য আনতে তিনি এমন একজনকে খুঁজছেন যিনি ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারেন। লড়াইটা মূলত এমন:

ইগর থিয়াগো (প্রথাগত শক্তির দাবিদার): ব্রেন্টফোর্ডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ইগরকে আনচেলত্তি দেখছেন একজন ‘পিওর নাম্বার নাইন’ হিসেবে। ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ম্যাচে তার গোল ও শারীরিক উপস্থিতি তাকে এই লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে রেখেছে।

এনদ্রিক (ভবিষ্যতের দাবিদার): এনদ্রিকের তুরুপের তাস হলো তার ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ গতি। আনচেলত্তি তাকে সরাসরি বাদ দিতে পারছেন না কারণ যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তার আছে। তবে ইগর থিয়াগোর ফিজিক্যাল গেমের কাছে তাকে কিছুটা লড়াই করতে হচ্ছে।

নেইমার (অভিজ্ঞতার কোটা): নেইমার এখন সবচেয়ে বড় ‘ওয়াইল্ড কার্ড’। যদি তিনি শতভাগ ফিটনেস প্রমাণ করতে পারেন, তবে আনচেলত্তি হয়তো একজন বাড়তি মিডফিল্ডার কমিয়ে তাকে দলে নেবেন। কিন্তু সান্তোসের হয়ে আগামী ১৪ ম্যাচে তার পারফরম্যান্সই হবে শেষ কথা।

মাঝমাঠের সমীকরণ: সৃজনশীলতা বনাম রক্ষণ

ব্রাজিলের মাঝমাঠে কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেস, আন্দ্রে সান্তোস ও ফাবিনিও ইতিমধ্যেই নিজেদের জায়গা পাকা করে ফেলেছেন। পঞ্চম সদস্য হিসেবে দানিলো সান্তোস আনচেলত্তির গুডবুকে নাম লিখিয়েছেন। তবে এতে একটি বড় অভাব থেকে যাচ্ছে—দলে কোনো প্রথাগত 'প্লে-মেকার' নেই। ফ্লামেঙ্গোর হয়ে আগামী ১৪টি ম্যাচ পাকেতার জন্য 'ডু অর ডাই'। ক্লাব ফুটবলে ছন্দ ফিরে পাওয়া পাকেতা যদি আনচেলত্তিকে বোঝাতে পারেন যে মাঝমাঠে সৃজনশীলতা প্রয়োজন, তবেই তার কপাল খুলতে পারে।

রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক

রক্ষণভাগে মার্কিনহোস, গাব্রিয়েল মাগালহায়েস ও এদের মিলিতাওয়ের সাথে ফেভারিট হিসেবে যোগ দিয়েছেন লিও পেরেরা ও ব্রেমার। বিশেষ করে লেফট-ব্যাকে লিও পেরেরা এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করা ব্রেমার নিজেদের দাবি জোরালো করেছেন। তবে বহুমুখী প্রতিভার কারণে ইবানিজ এখনও কোচের রাডারে আছেন। অন্যদিকে, গোলপোস্টের নিচে অ্যালিসন ও এডারসনের পর তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে বেন্তো এগিয়ে থাকলেও, লিবার্তোদোরেস ও স্থানীয় ডার্বিগুলোতে ভালো করে হুগো সুজা চমক দেখাতে পারেন।

ব্রাজিলের সম্ভাব্য ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলরক্ষক (৩ জন): অ্যালিসন বেকার (লিভারপুল), এডারসন মোরায়েস (ম্যানচেস্টার সিটি), বেন্তো (অ্যাটলেটিকো পারানায়েনসে) / বিকল্প: হুগো সুজা

রক্ষণভাগ (৮ জন): দানিলো (ফ্লামেঙ্গো/জুভেন্তাস - রাইট ব্যাক), এদের মিলিতাও (রিয়াল মাদ্রিদ - সেন্টার ব্যাক/রাইট ব্যাক), মার্কিনহোস (পিএসজি - সেন্টার ব্যাক), গাব্রিয়েল মাগালহায়েস (আর্সেনাল - সেন্টার ব্যাক), ব্রেমার (জুভেন্তাস - সেন্টার ব্যাক), লিও পেরেরা (ফ্লামেঙ্গো - লেফট ব্যাক), ভেন্ডেল/গিলার্মে আরানা (লেফট ব্যাক), ইবানিজ (আল আহলি - সেন্টার ব্যাক/ফুল ব্যাক)

মাঝমাঠ (৭ জন): কাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ব্রুনো গিমারেস (নিউক্যাসল), আন্দ্রে সান্তোস (চেলসি/স্ট্রাসবুর্গ), ফাবিনিও (আল ইতিহাদ),  দানিলো সান্তোস (নটিংহ্যাম ফরেস্ট), লুকাস পাকেতা (ফ্লামেঙ্গো/ওয়েস্ট হ্যাম), জোয়াও গোমেজ (উলভস)

আক্রমণভাগ (৮ জন): ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), রদ্রিগো (রিয়াল মাদ্রিদ), রাফিনহা (বার্সেলোনা), ম্যাথিউস কুনহা (উলভস), এস্তেভাও (পালমেইরাস/চেলসি), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), লুইজ হেনরিকে (বোটাফোগো)/ বিকল্প: থিয়াগো, এনদ্রিক (লিওঁ), নেইমার (সান্তোস)