গণভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার: শিশির মনিরের আশঙ্কা

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেছেন, অতীতের মতো ক্ষমতা দীর্ঘায়িতের ষড়যন্ত্র থেকেই ‎৭০ ভাগ মানুষের মতামত বাতিলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। যেখানে নাকে খত দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি তাদের মতামতে প্রাধান্য দিচ্ছে তারা। 

‎আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত “গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা” শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। 

শিশির মনির জানান, গুম প্রতিরোধ, মানবাধকার কমিশনসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ বাতিলের চক্রান্ত করা হচ্ছে। আবারও বিরোধী মত দমনসহ স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড করার লক্ষ্যে ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহারের লক্ষে এসব কর্মকাণ্ড করছে বিএনপি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থার সময় বিভিন্ন দলের আলোচনায় যখন সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছিল, তখনই গণভোটের প্রস্তাব আসে। তিনি দাবি করেন, এই প্রস্তাবটি একটি বড় রাজনৈতিক দল থেকেই এসেছিল এবং পরে প্রায় সবাই এতে একমত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, “যখন কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল জনগণের কাছেই যাওয়া হবে। গণভোটের মাধ্যমে মানুষের মতামত নেওয়ার বিষয়েও তখন ঐকমত্য হয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, যারা এই প্রস্তাব দিয়েছিল তারাই সেই ফলাফল বাস্তবায়নে পিছিয়ে যাচ্ছে।”

শিশির মনির বলেন, সংবিধানে গণভোটের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও এটি নিষিদ্ধ নয় এই যুক্তির ভিত্তিতেই তখন আলোচনা এগিয়েছিল।শিশির মনির অভিযোগ করেন, যে যার মতো করে সংবিধান কাটাছেঁড়া করে সবার কাছে সংবিধানকে হাসির পাত্রে পরিণত করা হয়েছে। 

সংবিধান নিয়ে চলমান বিতর্কের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতারা কখনো বলছেন সংবিধানের ভেতরে সমাধান আছে, আবার কখনো বলছেন নেই এ ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। 

বক্তব্যে তিনি রাষ্ট্রের সংস্কার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে কিছু মৌলিক বিষয় বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, যা সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিশির মনির বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত থাকলে স্বৈরাচারী প্রবণতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।