ফিটনেস টেস্টে অনুত্তীর্ণ হওয়ার অজুহাতে আইপিএল খেলার অনাপত্তি পত্র না দেওয়ায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন লঙ্কান পেসার নুয়ান তুষারা। কলম্বো জেলা আদালতে দায়ের করা এই মামলার ফলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে এই মৌসুমে তার মাঠে নামা এখন অনিশ্চয়তায়।
থুশারার দাবি, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সাথে তার কেন্দ্রীয় চুক্তির মেয়াদ গত ৩১ মার্চ শেষ হয়েছে এবং এরপর তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় না হওয়া সত্ত্বেও এসএলসি তাকে এনওসি দিতে অস্বীকার করে তার জীবিকার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
গত ১৫ ও ২৩ মার্চ কয়েক দফা আবেদন করার পর ২৪ মার্চ এসএলসি আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এনওসি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এই লঙ্কান পেসার।
সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার ভরাডুবির পর নির্বাচক কমিটির প্রধান প্রমোদ্যা বিক্রমাসিংহে খেলোয়াড়দের জন্য নতুন ও অত্যন্ত কঠোর ফিটনেস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছেন। ২ কিলোমিটার দৌড়, ২০ মিটার স্প্রিন্ট এবং স্কিনফোল্ড টেস্টসহ পাঁচটি ধাপে মোট ২৯ পয়েন্টের পরীক্ষায় অন্তত ১৭ পয়েন্ট পাওয়া বাধ্যতামূলক। এসএলসি সূত্রে জানা গেছে, তুষারা এই পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় পয়েন্ট অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তবে তুষারার যুক্তি হলো, ক্যারিয়ারের গত কয়েক বছর তার ফিটনেস একই স্তরে থাকা সত্ত্বেও তাকে আগে এনওসি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এবার উদ্দেশ্যমূলকভাবে নতুন নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
তুষারার এই আইনি লড়াই দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার তাবরেজ শামসির মামলার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড শামসিকে আইএলটি-টোয়েন্টি খেলার অনুমতি না দেওয়ায় তিনি আদালতের আশ্রয় নিয়েছিলেন। আদালত তখন শামসির পক্ষে রায় দিয়ে জানিয়েছিল, কোনো খেলোয়াড় কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থাকলে বোর্ড কেবল বাণিজ্যিক স্বার্থে তার এনওসি আটকে রাখতে পারে না। তুষারাও এখন সেই একই পথ অনুসরণ করছেন।
মামলাটি বর্তমানে কলম্বো জেলা আদালতে বিচারাধীন। আগামী ৯ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। ইস্টার সানডের ছুটির কারণে শ্রীলঙ্কার আদালত বন্ধ থাকায় এর আগে কোনো সুরাহা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আইপিএল গত ২৮ মার্চ শুরু হয়ে যাওয়ায় এবং আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় তুষারার এবারের আসরে খেলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।