হঠাৎ অবসর মেসির, ফেরাতে এনজোর চিঠি

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গত মঙ্গলবার জাম্বিয়ার বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানের বড় জয়ের ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ১১৬তম আন্তর্জাতিক গোলটি করেছেন ৩৮ বছর বয়সী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সেই জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রিয় অধিনায়ককে নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানালেন চেলসি মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ।

২৫ বছর বয়সী এনজো ফার্নান্দেজ ২০২২ সাল থেকে মেসির সাথে জাতীয় দলে খেলছেন। মেসির উপস্থিতি তাকে কতটা অনুপ্রাণিত করে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন: "লিও মাঠ ও মাঠের বাইরে—উভয় জায়গাতেই আমাদের জন্য এক বড় আদর্শ। তিনি যেভাবে নিজেকে পরিচালিত করেন, সতীর্থ ও সাধারণ মানুষের সাথে মেশেন এবং ড্রেসিংরুমে আমাদের উজ্জীবিত করেন, তা অসাধারণ। তার পাশে থাকতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।"

সেই বিখ্যাত চিঠি ও ফিরে দেখা দিনগুলো

এনজোর এই মুগ্ধতা আজকের নয়। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর মেসি যখন অভিমানে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন ১৫ বছর বয়সী কিশোর এনজো প্রিয় তারকাকে ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়ে একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছিলেন।

পুরানো স্মৃতি হাতড়ে এনজো বলেন, "আমি ৮-৯ বছর বয়স থেকে লিওকে টিভিতে দেখছি। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হার বা কোপা আমেরিকার সেই ব্যর্থতাগুলো দেখে আমার হৃদয় ভেঙে যেত। সেই আবেগ থেকেই আমি চিঠিটি লিখেছিলাম। আজ যখন ভাবি যে আমি সেই মানুষটার সাথেই বিশ্বকাপ জিতেছি, তখন পুরো বিষয়টাই অবিশ্বাস্য বা পাগলামি মনে হয়!"

মেসিকে লেখা এনজোর সেই চিঠি: 

আমরা আপনাকে কীভাবে বোঝাব যখন আমরা নিজেরাই বিপর্যস্ত? আমরা আপনাকে কীভাবে বোঝাব যখন আমাদের জীবনে আপনার কাঁধে থাকা চাপের ১% চাপও আমাদের কখনও নিতে হয়নি? আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় নিজেকে দেখে জানেন যে, ৪ কোটিরও বেশি মানুষ শুধু আপনার কাছ থেকে সবকিছু নিখুঁতভাবে পাওয়াই আশা করে না, বরং এটি হাস্যকরভাবে আপনার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তারা আপনার কাছে এগুলো দাবিও করতে পারে। আমরা আপনাকে কীভাবে বোঝাব যদি আমরা এটাই বুঝতে না পারি যে আপনি একজন রক্ত-মাংসের মানুষ, অতুলনীয় প্রতিভার অধিকারী এবং এই গ্রহের সেরা খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও দিনশেষে আপনি একজন মানুষই। আমরা আপনাকে কীভাবে বোঝাব যদি আমরা এক মুহূর্তের জন্যও এটা উপলব্ধি করতে না থামি যে, হারের ফলে আমাদের মনে যে ক্রোধ জন্মায় তার জন্য আপনি দায়ী নন; যার সাথে প্রায়ই আমাদের নিজেদের তৈরি হওয়া হতাশার সম্পর্ক বেশি থাকে।

চলুন আমরা আয়নায় নিজেদের দেখি এবং নিজেদের জিজ্ঞাসা করি, আমরা এই ছেলেটির কাছে যা দাবি করি—যাকে আমরা আসলে চিনিও না—তার ১% কি কখনও নিজেদের কাছে দাবি করেছি?

আমরা আপনাকে কীভাবে বোঝাব যখন আমাদের জন্য এটা দেখা কঠিন যে পুরো বিশ্ব আপনাকে তোষামোদ করছে? আপনি আপনার ছুটিতে কোনো সৈকতে শুয়ে থাকতে পারতেন, অথচ তার বদলে আপনি সেখানে দৌড়াচ্ছেন এবং আমাদের জাতীয় রঙের প্রতিনিধিত্ব করছেন—শুধুমাত্র কিছু মানুষের এটা দেখার জন্য যে আপনি দৌড়াচ্ছেন কি না বা জাতীয় সঙ্গীত গাইছেন কি না। লিওনেল, আপনি যা চান তা-ই করুন, কিন্তু দয়া করে থেকে যাওয়ার কথা ভাবুন। তবে থেকে যান আনন্দ পাওয়ার জন্য, যা এই মানুষগুলো আপনার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। এই অবান্তর চাপের পৃথিবীতে তারা খেলাটার সবচেয়ে মহৎ জিনিসটিই কেড়ে নিতে পেরেছে—আর তা হলো আনন্দ (Fun)। ছোটবেলায় আপনি নিশ্চয়ই নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং আনন্দ পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আলবিসেলেস্তেদের (আর্জেন্টিনা জার্সি) হয়ে আপনাকে খেলতে দেখা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গর্ব। কেবল আনন্দের জন্য খেলুন, কারণ যখন আপনি আনন্দ পান, আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না আমরা কতটা আনন্দিত হই।

ধন্যবাদ এবং দুঃখিত...

৩১ মার্চ জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসি ও এনজো

মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপ জিতলেও মেসির সাথে সেই চিঠি নিয়ে কখনো আলাপ করেননি এনজো। তিনি হেসে বলেন, "আমরা কখনো সেই চিঠি নিয়ে কথা বলিনি। আমি জানিও না তিনি সেটা কখনো দেখেছেন কি না।" এমনকি জাতীয় দলে প্রথমবার ডাক পাওয়ার পর ‘যদি আর সুযোগ না পান’ এই ভয়ে মেসির সাথে একটি ছবিও তুলে রেখেছিলেন এনজো।

বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা মেসি যেভাবে এই ৩৮ বছর বয়সেও জয়ের ক্ষুধা ধরে রেখেছেন, তাকে বর্ণনাতীত বলে আখ্যা দিয়েছেন এনজো। আগামী জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে মেসির খেলা নিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনিও আশাবাদী। স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসি যদি এই বিশ্বকাপে খেলেন, তবে সেটি হবে ফুটবল বিশ্বের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত