‘আমরা চাই, তার মরদেহটা যেন দ্রুত দেশে আনা হয়’

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার ছোট্ট একটি গ্রাম জিরুইন। সেখানেই ছিল শাহ আলম ভূঁইয়ার (৪৫) স্বপ্নের সংসার। প্রায় এক যুগ আগে পরিবারের সচ্ছলতার আশায় মরুভূমির দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে কষ্ট করে কিছুটা সচ্ছলতাও ফিরিয়েছিলেন। কিন্তু এবার আর ফেরা হলো না তার।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলে একটি খামারে কাজ করতেন শাহ আলম। গত বুধবার সকালে হঠাৎ আকাশ থেকে ভূপাতিত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ এসে আঘাত করে তার ওপর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। খবরটি পৌঁছানোর পর থেকে শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে তার পরিবার ও পুরো এলাকা।

নিহত শাহ আলমের বোন সাবিনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ভাই খুব কষ্ট করে সংসার চালাত। সামান্য বেতনে কাজ করেও পরিবারের জন্য সব কিছু পাঠাত। আমরা চাই, তার মরদেহটা যেন দ্রুত দেশে আনা হয়।’

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো দুবাই যান শাহ আলম। এরপর কয়েক দফায় দেশে এসে আবার ফিরে গেছেন কর্মস্থলে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে তিন মাসের ছুটি কাটিয়ে গিয়েছিলেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক শাহ আলমের স্বপ্ন ছিল সন্তানদের মানুষ করা, পরিবারের অভাব ঘোচানো। কিন্তু সেই স্বপ্নের মাঝপথেই থেমে গেল তার জীবন। গ্রামে এখন শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা বলছেন, এমন অকাল মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।

শাহ আলমের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার স্ত্রী ও সন্তানদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্বজনরা। এ বিষয়ে সাহেবাবাদ ইউনিয়নের সদস্য মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘খবরটি শোনার পর থেকে পুরো এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তার পরিবারের আহাজারি সহ্য করার মতো নয়।’

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শাহ আলমের পরিবার শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখার অপেক্ষায় আছে। তাদের একটাই দাবি, যেন দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে যথাযথ মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির জন্য সরকারি সহায়তাও কামনা করছেন তারা।