আগুনের ঘটনায় দুই শতাধিক হোটেল বন্ধ কলকাতায়

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই শতাধিক হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট ‘হোটেল শিখা-ইন’ নামের ওই হোটেলটিতে ভয়াবহ আগুনে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জনের প্রাণহানির পর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। অগ্নিনিরাপত্তায় কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শুরু হয় ব্যাপক অভিযান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘনের কারণে একাধিক হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া এসব হোটেল কলকাতার মিনি বাংলাদেশখ্যাত মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটে অবস্থিত। স্থানীয় প্রশাসনের অভিযানে সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা। বর্তমানে কলকাতায় থাকা প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশির মধ্যে ৭ হাজারই থাকছেন নিউমার্কেট এলাকায়।

থাকার জায়গা না পেয়ে কেউ ছুটছেন নতুন হোটেলের খোঁজে, কেউ আবার আগেভাগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সুযোগে কিছু হোটেলের বিরুদ্ধে দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। কলকাতার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরাও উদ্বিগ্ন; কারণ এই এলাকাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহন ও কেনাকাটার বড় অর্থনীতি, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমনিতেই চাপে ছিল। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স অবস্থানের কথা আগেই জানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডের পর সেদিন সন্ধ্যা থেকেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযানে নামে নিউমার্কেট থানার পুলিশ। অভিযানে দেখা যায়, অনেক হোটেলে ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অ্যালার্ম কিংবা জরুরি সিঁড়ি নেই, এমনকি ফায়ার অডিট ও প্রয়োজনীয় পুলিশ পারমিশনও নেই বহু প্রতিষ্ঠানের।

নিউমার্কেট এলাকায় গত সোমবার সকাল থেকেই পর্যটকদের হোটেলগুলো থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। অনেক পর্যটক এ ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। কলকাতায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া এক বাংলাদেশি বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে এসে যদি হোটেলে থাকা নিয়েই একটা জটিলতা হয়, তাহলে পরবর্তীতে এখানে আসাটা খুব কষ্ট হয়ে যাবে।’ ব্যবসায়ীরা বলছেন, টুরিস্ট ভিসা শুরু হওয়ার পর পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করার সময় নতুন করে হোটেল বন্ধের ঘটনা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। তবে প্রশাসন বলছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনকারী হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত