নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ইসদাইরে শুভ নামের এক যুবককে ডেকে এনে গুমের অভিযোগে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুভর মা মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার ফতুল্লা মডেল থানায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে।
অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ শুভর নেতৃত্বে তার বাহিনীর সদস্যরা চাষাঢ়া রেললাইনের পাশে অবস্থিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানার গ্যারেজে অতর্কিতভাবে চাপাতিসহ হামলা চালান। ঘটনার পর শুভর পরিবারের অভিযোগ তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার পর স্ত্রী পিংকি বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় শাকিল ও রানাগংদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে শুভর মা মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে ২ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানা (৫১), কাশেম (ভাঙারি ব্যবসায়ী) (৪৫), সাব্বির (২১), শাকিল (২৮), পাপ্পু (৪০), মো. আলী মিয়া (৩৮), জাহিদ (৩৫), রাজ্জাক (৫০), ওয়াসিম (২৩), লাল শুভ (২০)।
মামলায় আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে রানা প্রয়াত যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাগনে। তিনি ভাগনে রানা হিসেবেই পরিচিত। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আসামি সাব্বির, রাজ্জাক ও ওয়াসিম নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ মার্চ বিকেলে শুভ সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকেশ্বরী এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে যান। পরে সন্ধ্যায় শাকিল তাকে ফোন করে পূর্ব ইসদাইর রেললাইন এলাকায় ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন আসামি তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় শুভ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত এপাচি মোটরসাইকেলটিও নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এরপর থেকে শুভ নিখোঁজ রয়েছেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির জানান, এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।