হবিগঞ্জে আগামীকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে ভাস্বর এ দিবসটি সরকারিভাবে পালন করা না হলেও এবার গুরুত্বের সঙ্গে পালনের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড।
এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি জি কে গউছ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলাম হবিগঞ্জে আসছেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা থাকবেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো মন্ত্রীদের সফরসূচি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সৌধের (বুলেট বেদী) সামনে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। সকাল ১১টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ ও শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের করা হবে। পরে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনীর গণহত্যার পর সামরিক বাহিনী, ইপিআর, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বাঙালি সদস্য ও তরুণ দেশপ্রেমিকরা স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এর মধ্যে ৪ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানেই প্রণীত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল, যা ‘তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি’ নামে পরিচিত।