রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখান এলাকায় সৌদি জুয়েলার্সের শাটারে থাকা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পথচারী ওই শিশুটির নাম জিসান। গত বৃহস্পতিবা্র দুপুরে দক্ষিণখানের আশকোনায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয়রা দোকান কর্মীদের ওপর উত্তেজিত হয়ে উঠে। তারা দোকানের সামনে ভিড় করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে দক্ষিনখান থানা পুলিশ। আজও এই নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সাপ্তাহিক বন্ধ থাকার কারণে গত বুধবার আশকোনা সৌদি জুয়েলার্স কর্মীরা চুরি ঠেকাতে দোকানের শাটারে বিদ্যুতের ফাঁদ পেতে রাখেন। শিশু জিসান এ জুয়েলার্স দোকানের পাশে ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার সময় দোকানের শাটারে হাত লাগে যায়। চিৎকার দিয়ে শাটারের সঙ্গে ঝুলতে থাকে শিশুটি। স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেন শিশু জিসানকে। কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু জিসানকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতা আহসান হাবিব হাসান ও আবদুস ছালাম জানান, সৌদি জুয়েলার্স দোকানের শাটার ফুটপাত ঘেঁষা। মর্মান্তিক ঘটনায়, পুলিশকে খবর না দিয়ে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি নিয়ে এসে দোকানের শাটার থেকে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দোকান কর্মীরা। শিশু জিসানের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেন দক্ষিণখান থানার এসআই মো. শাহীন আলম। তিনি জানান, দক্ষিণখানের প্রেম বাগান এলাকার জুয়েল মিয়ার ছেলে নিহত শিশু জিসান। এ ঘটনায় সৌদি জুয়েলার্সের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন সাইদুর রহমান ও মিনার হোসেন। দক্ষিণখান থানার ওসি মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সৌদি জুয়েলার্স দোকানের শাটারে থাকা বিদ্যুৎ থেকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে টেলিফোনে শিশু জিসান নিহতের বিষয়টি জানানো। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। এ ব্যপারে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ–পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বলেন, আশকোনা সৌদি জুয়েলার্স দোকানে পথচারী শিশুর নিহতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেকোন পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে।