রেফারীকে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করে নিষিদ্ধের শঙ্কায় নেইমার ‎

সান্তোসের হয়ে ২-০ গোলের জয়ের রাতে মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দিলেন নেইমার জুনিয়র। ম্যাচ রেফারিকে নিয়ে করা একটি কুরুচিপূর্ণ এবং অবমাননাকর মন্তব্যের কারণে এখন জনরোষের মুখে পড়েছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে সুযোগের সন্ধানে থাকা ফরোয়ার্ড।

‎বৃহস্পতিবার রাতে রেমোর বিপক্ষে ম্যাচের ৮৬ মিনিটে নেইমারকে ফাউল করেন ডিয়েগো হার্নান্দেজ। ফাউলটি নিয়ে রেফারি সাভিও পেরেইরা সাম্পাইওর কাছে অভিযোগ করতে গেলে উল্টো নেইমারকেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়। গত চার ম্যাচে এটি তার তৃতীয় হলুদ কার্ড, যার ফলে আগামী সপ্তাহে ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি নিষিদ্ধ থাকবেন।

‎ম্যাচ শেষে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ সামলাতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। তিনি বলেন: "এটা খুবই অন্যায় কারণ আমাকে পেছন থেকে ফাউল করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত অশোভন এবং ম্যাচের শেষে এর কোনো প্রয়োজন ছিল না। এটা একবার নয়, তিন-চারবার হয়েছে। আমি শুধু অভিযোগ করতে গিয়েছিলাম আর অমনি আমাকে কার্ড দেওয়া হলো।"

‎এরপর হেসেই বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন নেইমার, "যাই হোক, সাভিও সব সময়ই এমন। আমার মনে হয় সে আজ... [হাসি] কীভাবে যেন বলে... পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায় আজ মাঠে এসেছে।"

‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড়


‎নেইমারের এই নারীবিদ্বেষী মন্তব্যটি প্রচার হওয়ার পরপরই ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একজন দর্শক এক্সে লিখেছেন, "তার মতো একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এমন অসভ্য এবং অপেশাদার মন্তব্য কাম্য নয়।" অন্য একজন লিখেছেন, "অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ। ও এখন ফুরিয়ে গেছে।"

‎ফুটবলে রেফারিদের মেজাজ বা আচরণ বোঝাতে কোনো জৈবিক প্রক্রিয়া (পিরিয়ড) নিয়ে তুলনা করাকে অত্যন্ত অপমানজনক হিসেবে দেখা হয়। এর আগে ব্রাজিলের সেরি-এ লিগের গুস্তাভো মার্কেসকে একই ধরণের মন্তব্যের জন্য ১২ ম্যাচের বড় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। নেইমারের ক্ষেত্রেও তেমন কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

‎ফ্রান্সের এক নারী সাংবাদিক এক্স পোস্টে তীব্র সমালোচনা করেছেন নেইমারের "এই ঘটনাটি নেইমারের ক্যারিয়ারের দীর্ঘ বিতর্কিত তালিকার সাথে আরও একটি কালো অধ্যায় যুক্ত করল। যখন একটি ম্যাচের বিশ্লেষণ হওয়া উচিত ছিল কেবল খেলার মান বা ট্যাকটিকস নিয়ে, সেখানে নেইমারের এমন অবমাননাকর উক্তি পুরো মনোযোগ ঘুরিয়ে দিয়েছে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে তিনি অসাধারণ হতে পারেন, কিন্তু মাঠের বাইরে বারবার এমন আচরণ তার ইমেজকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে যখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলে লিঙ্গবৈষম্য দূর করার চেষ্টা চলছে, তখন নেইমারের মতো একজন আইকনের কাছ থেকে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আবারও প্রমাণ করে যে, মাঠের পারফরম্যান্সই একজন খেলোয়াড়কে পুরোপুরি মহান করে তোলে না, বরং তার আচরণ এবং মানসিকতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।"