১১ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ

৭০ ভাগ মানুষের রায় অস্বীকার করে ফ্যাসিবাদ চায় বিএনপি

জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপি ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অস্বীকার করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করে এক ব্যক্তির কাছে সব ক্ষমতা দিতে চায়। তিনি বলেন, গণভোটকে অস্বীকার করা মানে শুধু ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অস্বীকার করা নয়, এর মধ্য দিয়ে আবার তারা সেই ফ্যাসিবাদী কায়দায় এক ব্যক্তির কাছে সব ক্ষমতা দিতে চায়। আমরা ১৬ বছর এক ব্যক্তির শাসন দেখেছি। হাজার হাজার ভাইকে জীবন দিতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদ তাড়াতে আর কারও জীবন দিতে হোক, তা আমরা চাই না।

গতকাল শনিবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের জনরায় প্রত্যাখ্যানের প্রতিবাদ এবং গণভোটের সিদ্ধান্তের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে পল্টন হয়ে বিজয়নগর ও নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে কাকরাইল গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমাদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মোখলেসুর রহমান কাসেমী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. ওমর ফারুক প্রমুখ।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, সংসদে গিয়েছি জুলাই বিপ্লবের কারণে, এখানে বক্তব্য দিচ্ছি জুলাই বিপ্লবের কারণে। জুলাই বিপ্লব আমাদের নতুন জীবন দান করেছে। সেই জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করা মানে, নতুন জীবনকে অস্বীকার করা। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব একদলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না। এটি ছিল পুরাতন ব্যবস্থাকে ছুড়ে ফেলে নতুন ব্যবস্থা কায়েম করা। একদল ব্যক্তির হাতে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত না করে জনগণের ক্ষমতাকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। সময় থাকতে যদি দেশকে ভালোভাবে চালাতে চান, তাহলে গণভোটের রায়কে মেনে নেন। জনগণ আপনাদের ভালোবাসবে, শ্রদ্ধা করবে। আর যদি অবজ্ঞা করেন, তবে তার পরিণতি ভালো হবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বিএনপির রাজনীতি এখন দুই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তার একটি মুনাফেকি, আরেকটি সুবিধাবাদ। অন্তর্বর্তী সরকারের যে অধ্যাদেশগুলো তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও আরও সুসংহত করে, তা তাদের কাছে খুব পছন্দনীয়। আর যে অধ্যাদেশগুলো জাতির কাছে তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে, তা অপছন্দনীয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠন করা বৈধ, আর জনগণের ভোটে সংস্কার হবে সেটাকে বলা হয় অবৈধ। এমন দ্বিচারিতা দেশের মানুষ সহ্য করবে না। আমরা সংস্কার পরিষদের কথা বলছি। এটা নতুন কোনো কথা নয়। ঐকমত্য কমিশনে ৩০টির মতো রাজনৈতিক দল সংবিধানের টেকসই পরিবর্তনের জন্য সংস্কার সাধনের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছিলাম। ভোটের আগে পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গণভোটের বিপক্ষে বলেনি। কিন্তু ভোটের পর দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার কারণে জনগণের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সাহস করছে।