একদিনও শান্তিতে কাজ করতে পারিনি : বুলবুল

বিসিবি পরিচালক সংখ্যা কমতে কমতে বোর্ড কি শেষ পর্যন্ত ‘অলআউট’ হয়ে যাবে? এমন প্রশ্নের মুখেও বিচলিত নন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। গত অক্টোবর মাসের বোর্ড নির্বাচনে অনিয়ম ও ক্ষমতা অপব্যবহারের তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের হাতে জমা পড়ার দিনই তিনি জানিয়ে দিলেন পদত্যাগের মিছিলে তিনি হবেন ‘শেষ ব্যক্তি ’।

একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে সাক্ষাৎকারে আমিনুল ইসলাম বোর্ডের বর্তমান অস্থিরতা ও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। শনিবারই চারজনসহ চলতি বছরে মোট সাতজন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। বোর্ডের এমন টালমাটাল অবস্থায় আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একটা চেয়ার নিয়ে বসে থাকব, আর কী করব? আই উইল বি দ্য লাস্ট পারসন টু গো (যাওয়ার জন্য আমিই থাকব শেষ ব্যক্তি) ।’ তিনি দাবি করেন, তার দলে এখনো একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ ও সৎমানুষ রয়েছেন এবং তাদের নিয়েই তিনি দেশের সেবা করতে চান।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গঠিত তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গত অক্টোবরের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে আমিনুল বলেন, তিনি নিজে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হননি, তবে লিখিত জবাব দিয়েছেন। তার দাবি, তিনি কেবল জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে কাউন্সিলরদের নাম পাঠানোর জন্য চিঠি দিয়েছিলেন। কারণ অনেকেই নিয়ম মেনে নাম পাঠাননি।  ২০২৫ সালের মে মাসে ফারুক আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন আমিনুল। পরে অক্টোবর নির্বাচনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতি নির্বাচিত হন। তবে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল এ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন।

গত ছয় মাস ধরে বোর্ড পরিচালনায় ‘এক্সটার্নাল ফোর্স’ বা বাইরের শক্তির চাপের অভিযোগ করেছেন বিসিবি সভাপতি। আক্ষেপ করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা ছয় মাসের মতো বোর্ড চালাচ্ছি, কিন্তু একটা দিনের জন্যও শান্তিতে কাজ করতে পারিনি। সব সময় আমাদের ডিস্টার্ব করা হচ্ছে।’ এমনকি আট বছর আগের নারী ক্রিকেটের প্রসঙ্গ টেনেও বর্তমান বোর্ডকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইসিসিতে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই সাবেক ক্রিকেটার জানান, দেশের টানেই তিনি সবকিছু ছেড়ে দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে সরকার যদি তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তিনি তা মেনে নেবেন। আমিনুল বলেন, ‘আমি দেশি ক্রিকেটে সহায়তা করতে এসেছি। যদি দায়িত্ব না থাকে, তবে আমি আমার অন্য পথ দেখে নেব। কিন্তু আমি দেশের জন্যই কাজ করতে চাই।’