যন্ত্রের কবলে কবজির মোচড়

আন্দ্রে আগাসি টেনিসকে ঘৃণা করতেন। আসলে ঘৃণা করতেন বল ছোড়ার যন্ত্রটাকে, যার নল থেকে আগুনের হলকার মতো ছুটে আসত উজ্জ্বল কমলা আর হলুদ রঙের গোলা। আগাসি যন্ত্রটার নামই দিয়েছিলেন ড্রাগন! আর সেই ড্রাগনের উগরে দেওয়া ১০০০টা গোলার সামনে রোজ র‌্যাকেট হাতে দাঁড় করিয়ে দিতেন আগাসির বাবা।

বোলিং মেশিন যন্ত্রের ব্যবহারটা টেনিসেই বেশি। একটানা অনেকটা সময় বল রিটার্ন করা অনুশীলন করার জন্য এই যন্ত্রের ব্যবহার করা হয় টেনিস ক্লাবগুলোতে। বেসবলের অনুশীলনেও বোলিং মেশিনের ব্যবহার হয়। ১৯০৯ সালে কেমব্রিজের এক অধ্যাপককে দিয়ে নকশা করিয়ে একটা বোলিং মেশিন বানানো হয়েছিল। স্রেফ কাঠের হাতল, ইলাস্টিকের দড়ি আর স্পিন্ডলের সাহায্যে বানানো সেই বোলিং মেশিন থেকেও বেশ জোরের সঙ্গে বল ছোড়া যেত! তবে আধুনিক যুগে ক্রিকেটের প্রস্তুতিপর্বে বোলিং মেশিন শীর্ষপর্যায়ে রীতিমতো অপরিহার্য। বিশেষ করে ইনডোরে, ব্যাটসম্যানদের লম্বা সময়ের ব্যাটিং অনুশীলনে বোলিং মেশিনই ভরসা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইনডোরে ট্রেনিংয়েও বোলিং মেশিন আছে। তবে সেসব শুধু নির্দিষ্ট গতিতে বল ছুড়তেই পারে, পেস বোলিং খেলার অনুশীলনের জন্যই বেশি উপযোগী। তবে সম্প্রতি নতুন একটি বোলিং মেশিন কিনেছে বিসিবি, সোমবার তারই প্রথম প্রয়োগ দেখা গেল শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান সিরিজকে সামনে রেখে চলমান অনুশীলনে।

‘মারলিন বাই বোলা’, স্পিন বোলিং মেশিনের এটাই নাম বা বলা যায় এই প্রযুক্তির নাম। উদ্ভাবক হেনরি প্রায়োর। এই যন্ত্র প্রথম বানানো হয়েছিল ইংল্যান্ড দলের জন্য, যাতে করে শেন ওয়ার্নের স্পিন সামলানোর দক্ষতা গড়ে ওঠে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে। ২০০৫ সালে ঐতিহাসিক অ্যাশেজ জয়ে এই স্পিন-বোলিং মেশিনেরও অবদান আছে, এমনটাই দাবি উদ্ভাবক সংস্থার ওয়েবসাইটে। ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ডিরেক্টর ও সাবেক ব্যাটসম্যান রবার্ট কি এই যন্ত্র সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘এই যন্ত্রটি ইংলিশ ক্রিকেট এবং আমাদের স্পিন খেলার পদ্ধতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।’ শুরু থেকেই ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড এই যন্ত্রের বড় ক্রেতা, সূচনালগ্ন থেকে এই যন্ত্রে অনেক পরিবর্তন ও উন্নয়ন এসেছে এবং সময়ে সময়ে পুরনো যন্ত্রগুলো বদলেও নিয়েছে ইসিবি। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা শাহরিয়ার নাফীস গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘এই বোলিং মেশিনটার নাম মার্লিন বাই বোলা। এটা নিয়ে অনেকদিন ধরেই কথা হচ্ছিল। কিছুদিন আগেই অর্ডার করা হয়। মেশিনটা অনেক ভারী হওয়ায় ফ্লাইটের মাধ্যমে না এনে জাহাজের মাধ্যমে আনা হয়েছে।’ ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্য বলছে, যন্ত্রটি ট্রাইপডের ওপর বসালে ১.৫ মিটার উচ্চতা, প্রস্থে ০.৮ মিটার আর পুরুত্ব প্রায় ১ মিটার। মার্লিন বাই বোলা সাধারণ বোলিং মেশিনের তুলনায় অনেক বেশি বড় এবং ওজনেও বেশ ভারী। এর ভেতর একটি  কম্পিউটার স্থাপন করা আছে যেটার মাধ্যমে বলের লেন্থ এবং টার্ন প্রোগ্রাম করে দেওয়া যায়, আছে লেজার সাইটিং যার মাধ্যমে নিখুঁত নিশানায় বল ফেলা যায়। এর ভেতর একটি জটিল স্পিনিং মেকানিজম রয়েছে, যার ফলে বলকে ঘোরানোর মাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব । তবে ভারী ওজন এবং জটিল পরিচালনা পদ্ধতির জন্য এটা সহজে বহনযোগ্য নয়।