ফেডারেশন কর্তারা কোচ

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৯ এএম

দেশের প্রত্যেকটি ক্রীড়া ফেডারেশনের নিজস্ব অভিজ্ঞ ও বিশেষায়িত কোচ রয়েছেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদেরও বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের কোচ রয়েছেন। কিন্তু তারপরও ক্রীড়াঙ্গনে কোচের ভূমিকায় বিদেশ ভ্রমণে যেতে দেখা যায় ফেডারেশনের প্রশাসনিক স্তরের সর্বোচ্চ পদাধিকারী সাধারণ সম্পাদকদের, যা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, অভিজ্ঞ কোচ থাকতে সেই পদে সাধারণ সম্পাদকরা কেন?

এশিয়ান গেমসের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের ক্রীড়া ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকই যখন দলের কোচের ভূমিকায় থাকেন, তখন প্রশ্ন উঠে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে। আসন্ন এশিয়ান গেমসে এমনই চিত্র দেখা যাচ্ছে। নতুন কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর কয়েকজন সাধারণ সম্পাদক কোচ হিসেবে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন।

এই তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু, বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান শাকিল এবং জুডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নয়ন চৌধুরী। নতুন কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পরই তারা এশিয়ান গেমসে দলের কোচ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। শুধু সাধারণ সম্পাদকই নন, ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক হয়েও কোচের দায়িত্ব নিয়ে এশিয়ান গেমসে যাচ্ছেন একাধিক ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক।

এবারের গেমসে ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। এত বড় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচ হিসেবে কারা যাচ্ছেন, সেই নির্বাচন তাই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে একই ব্যক্তি ফেডারেশনের নীতিনির্ধারণী পদে থেকে আবার দলের কোচের দায়িত্ব পালন করলে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠতেই পারে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বিষয়টিকে নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘যদিও আমরা জানি অনেক সাধারণ সম্পাদকের কোচের সনদ রয়েছে। তারপরও এটা নৈতিকতা-বিবর্জিত এবং দৃষ্টিকটু।’ তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক ফেডারেশনগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘ইতিমধ্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মহোদয় বিষয়টি নিয়ে কথাও বলেছেন ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আগামী গেমস থেকে কোনো সাধারণ সম্পাদক আর দলের কোচ হয়ে বিদেশ ভ্রমণে যেতে পারবেন না।’ গত রবিবার এক মতবিনিময় সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের যারা ফেডারেশনের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক আছেন, হয়তো-বা আপনারা সাবেক ক্রীড়াবিদ। কিন্তু আমি কখনোই চাই না, আপনারা কোনো ক্রীড়াবিদ কিংবা কোচ হয়ে দলের সঙ্গে বিদেশ সফরে যান।’

ক্রীড়া ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের মূল দায়িত্ব প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা। অন্যদিকে কোচের দায়িত্ব খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, কৌশল নির্ধারণ ও প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলে দায়িত্বের বিভাজন এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সংশ্লিষ্ট সাধারণ সম্পাদকদের কারও কারও কোচিংয়ের স্বীকৃত সনদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ফলে যোগ্যতার বিষয়টি একেবারে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু নৈতিকতা ও দায়িত্বের পৃথকীকরণের প্রশ্নেই আপত্তি উঠছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত