রিয়ালের ঐতিহ্য অপ্রতিরোধ্য বায়ার্ন

ইউরোপীয় ফুটবলের মানচিত্রে যখন রিয়াল মাদ্রিদ এবং বায়ার্ন মিউনিখের নাম একই সমান্তরালে আসে, তখন তাকে কেবল একটি ম্যাচ বলা চলে না; এটি আসলে দুই অভিজাত ক্লাবের লড়াই। অথচ এক অদ্ভুত পরিসংখ্যান বলছে, সম্মিলিতভাবে ২১টি ইউরোপীয় রাজমুকুট (চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা) জেতা এই দুই পরাশক্তি আজ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ফাইনালে কখনোই মুখোমুখি হয়নি। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না, তবে কোয়ার্টার ফাইনালের এই মহাদ্বৈরথ ফাইনালের উত্তাপকেও হার মানাতে প্রস্তুত।

আজ রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সেই ঐতিহাসিক গালিচায় যখন ২৯তম বারের মতো এই দুই হেভিওয়েট মুখোমুখি হবে, তখন একদিকে থাকবে রিয়ালের ১৫ শিরোপার আভিজাত্য, আর অন্যদিকে বায়ার্নের বর্তমান ফর্মের দাপট। ম্যাচের আগে বায়ার্ন মিউনিখ শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হলো দলের প্রধান স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের প্রত্যাবর্তন। গত মার্চে ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনকালে গোড়ালির চোটের কারণে তিনি কিছুটা ছিটকে গিয়েছিলেন। এমনকি শনিবার ফ্রাইবুর্গের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয়েও তিনি স্কোয়াডে ছিলেন না।

তবে সোমবার বার্নাব্যুতে নামার আগের শেষ অনুশীলনে সতীর্থদের সঙ্গে পুরোদমে ঘাম ঝরিয়েছেন এই ৩২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে ৪০ ম্যাচে ৪৮ গোল (চ্যাম্পিয়নস লিগে ৯ ম্যাচে ১০ গোল) করা কেইনকে ঘিরে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিলেও তার অনুশীলনে ফেরা রিয়াল রক্ষণভাগের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।

কাগজে-কলমে গত এক দশকে এই দ্বৈরথটি রিয়াল মাদ্রিদের জন্য একপেশে শিকারে পরিণত হয়েছে। ২০১১-১২ মৌসুমের পর থেকে নকআউট পর্বে পাঁচবার দেখা হয়েছে তাদের, আর প্রতিবারই শেষ হাসি হেসেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বায়ার্ন মিউনিখ বর্তমানে ইউরোপের সবচেয়ে ফর্মে থাকা দল। টানা ১২ ম্যাচে অপরাজিত থেকে তারা বার্নাব্যুতে পা রাখছে। বুন্দেসলিগায় ৯ পয়েন্টের লিড নিয়ে তারা অনেকটাই নির্ভার।

অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ কিছুটা অস্বস্তিতে। যদিও তারা ম্যানচেস্টার সিটিকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে, কিন্তু গত শনিবার লা লিগায় মায়োর্কার কাছে ২-১ গোলের হার তাদের শিরোপার দৌড়ে ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে দিয়েছে। রিয়ালের ডাগআউটে থাকা আলভারো আরবেলোয়ার সামনে ইতিহাসের হাতছানি। প্রথম কোচ হিসেবে নকআউট পর্বের শুরুর পাঁচটি ম্যাচ জেতার রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে তিনি। তবে প্রতিপক্ষকে নিয়ে তিনি বেশ সতর্ক, ‘আমরা ইউরোপের সবচেয়ে ফর্মে থাকা দলের মুখোমুখি হচ্ছি। বায়ার্ন কেবল জয় পাচ্ছে না, তারা খেলছেও নান্দনিক ফুটবল। তবে বার্নাব্যু সবসময়ই বিশেষ কিছু রাতের সাক্ষী থাকে, কালও তেমন কিছুই হবে।’