আমিরুলদের উজবেক লজ্জা

খেলা শেষের সাইরেন বেজে উঠতেই টার্ফে বসে পড়লেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফলের স্বাদ পাওয়ার পাশাপাশি এশিয়ান গেমস বাছাইয়ের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর আমিরুল, পুস্কররা একেকজন যেন পাথর বনে গেলেন। বাংলাদেশকে লজ্জায় ডুবিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখার পাশাপাশি এশিয়ান গেমস নিশ্চিত করেছে উজবেকিস্তান। গতকাল সোমবার থাইল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ১-১ ড্রয়ে ভাগ্য খুলে গেছে উজবেকদের। আর সেপ্টেম্বরে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসে সুযোগ পেতে বাংলাদেশকে খেলতে হবে স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।

এশিয়ান গেমস হকির বাছাইয়ে বাংলাদেশ অনেকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এবারও একই লক্ষ্য নিয়ে থাইল্যান্ড গিয়েছিল দল। তবে শুরু থেকেই ধুঁকতে দেখা যায় দলকে। চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের কষ্টের জয়ে শুরুর পর শ্রীলংকার কাছে হেরে বসে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে যেতে উজবেকদের হারানোর বিকল্প ছিল না। উল্টো হেরেই বসেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান ম্যাচ ড্র হওয়ায় শ্রীলংকা ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে গেছে। চাইনিজ তাইপে গতকাল শ্রীলংকাকে শেষ ম্যাচে হারালেও অবস্থান নড়চড় হবে না। বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের সমান ৪ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে উজবেকিস্তান এগিয়ে থাকায় গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে তারা গেছে সেমিফাইনালে।

বাংলাদেশ আছে ‘বি’ গ্রুপের তৃতীয় স্থানে। ছয়টি দল পাবে এশিয়ান গেমসের টিকিট। অর্থাৎ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। প্রথম ম্যাচটি জিতলেও অবশ্য নিশ্চিত হয়ে যাবে খেলা। জিতলে পরে তাদের খেলতে হবে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।

দলের সার্বিক পরিস্থিতিতে শঙ্কা প্রকাশ করে জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়ন বলেন, ‘উজবেকিস্তান কখনোই আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে পারেনি। অথচ তারা প্রথম পয়েন্ট পেয়ে এশিয়ান গেমসে, আর আমাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক।’ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ড্র করতেও ঘাম ঝরেছে বাংলাদেশের। ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারের সাত মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলে এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান। বাংলাদেশ সেই গোল পরিশোধ করেছে চতুর্থ কোয়ার্টারের দ্বিতীয় মিনিটে। পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে আমিরুল গোল করে সমতা আনেন।

সাম্প্রতিক সময়ে হকিতে বিপর্যয় ঘটছে নিয়মিতই। গত বছর এশিয়া কাপের বাছাই উতরাতে পারেনি বাংলাদেশ। যে এএইচএফ কাপ নিয়মিতই চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ, সেই আসরেই সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি তারা। সেই বিপর্যয়ের পর এশিয়ান গেমস বাছাইয়ের সেমিফাইনালে যেতে না পারাটা বড় লজ্জার।

এর দায় অবশ্য অনেকটাই যাবে ফেডারেশনের সিলেকশন প্যানেলের ওপর। সোহানুর রহমান সবুজের মতো ফর্মে থাকা পিসি বিশেষজ্ঞকে এবার দলেই নেয়নি তারা। এর আগে এএইচএফ কাপের বুড়িয়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে বাদ দেওয়া হয় দেশসেরা মিডফিল্ডার রাসেল মাহমুদ জিমিকে। বর্তমান অ্যাডহক কমিটি হকিকে তুলে দিয়েছে উল্টোরথে।