বিসিবির গত অক্টোবরের নির্বাচনের অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে অন্তবর্তী সরকারের সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে। ‘অনিয়মে ভরা’ এই নির্বাচনের কারণে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী বর্তমান ক্রিকেট বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া পরিষদের উপসচিব (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান।
বিকেলে এনএসসিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল এহসান বলেছেন, 'তদন্ত রিপোর্টে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপ খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চাপ দিয়েছেন তিনি। শেরাটন হোটেলে আসিফ মাহমুদ ও সাখাওয়াত হোসেন প্রভাবিত করেছেন ভোটারদেরকে পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার জন্য।'
সাবেক বিচারপতি, পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিক নিয়ে গঠিত ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি দুই দিন আগে রিপোর্ট জমা দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে। রিপোর্টে বিদায়ী বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধেও সুবিধা নেওয়ার কথা তুলে ধরেছেন আমিনুল এহসান, ‘বিসিবি সংবিধানের ৯.৩.৩ ধারা অনুযায়ী, সভাপতি এককভাবে ১০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর মনোনয়নের ক্ষমতা রাখেন না। বিসিবি সভাপতি হিসেবে জনাব আমিনুল ইসলাম বুলবুল একপক্ষীয়ভাবে ১০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন করে তার ক্ষমতার বাইরে কাজ করেছেন। এটি স্পষ্ট ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন।’
বিসিবির গঠনতন্ত্রের ৯.৩.৩ ধারায় লেখা আছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ও প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন খেলোয়াড়বৃন্দের মধ্য থেকে ১০ জনকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করতে পারবে।
অ্যাডহক কমিটি আইসিসির গ্রহণযোগ্যতা পাবে্ বলে আশা করছেন আমিনুল এহসান। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়নের জন্য, জনমনে ক্রিকেট সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য, মানুষের আশঙ্কা এবং সন্দেহ দূর করার জন্য এনএসসি এই উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা আশা করছি আইসিসি থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক জবাব আমরা খুব শিগগিরই পেয়ে যাব।’