২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করবে রোবট। কৃত্রিম মেধাকে কাজে লাগিয়ে যন্ত্রমানব বংশবৃদ্ধিও করতে পারবে বলে আধুনিক গবেষণায় প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ফলে আগামী দিনে পৃথিবীর যাবতীয় কাজ তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
এখন পৃথিবীর অনেক কাজই রোবট দিয়ে হচ্ছে। সময় যত যাচ্ছে মানুষের তৈরি রোবট মানুষকেই নিয়ন্ত্রণ করবে? এমন ধারণার কারণ হিসেবে সম্প্রতি ব্যাঙের জীবন্ত কোষ (স্টিম সেল) ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন একটি বিশেষ ধরনের রোবট। সেটা নিজের থেকেই কোষ সংগ্রহ করে আরও রোবট তৈরি করতে পারে।
গবেষকদের কেউ কেউ একে এই বিষয়টাকে রোবটের বংশবৃদ্ধি বলে উল্লেখ করেছেন। এমনটা শুধু রোবটের দুনিয়ায় ঘটছে ভাবলে ভুল হবে। দীর্ঘদিন ধরেই ক্লোন তৈরি করতে পারে এমন কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিল মেটা ও আলিবাবার মতো টেক জায়ান্ট। অবশেষে সেখানে সাফল্য এসেছে বলে খবর সূত্রের।
দ্য ভার্জ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটা ও আলিবাবার ওই এআই প্রযুক্তি নিজেই নিজের কোড লিখতে সক্ষম। এর মাধ্যমে নিজে থেকে উন্নত সংস্করণে বদলে যেতে দেখা গিয়েছে ওই কৃত্রিম মেধাকে। এ ছাড়া টেসলা ও বিআইডব্লিউ কারখানায় এমন রোবট রয়েছে, যা বিভিন্ন সরঞ্জাম জুড়ে তৈরি করতে পারে এক বা একাধিক রোবট।
বর্তমান সময়ে উন্নত দেশগুলোতে রোবট প্রযুক্তি এক নতুন বিপ্লব সৃষ্টি করেছে, যেখানে জড়নড়ঃরপং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। শিল্পকারখানায় রোবট এখন দ্রুত ও নিখুঁতভাবে পণ্য উৎপাদন করছে, বিশেষ করে ঞবংষধ-এর মতো প্রতিষ্ঠানে স্বয়ংক্রিয় রোবট পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। স্বাস্থ্যসেবায় জড়নড়ঃরপ ঝঁৎমবৎু ব্যবহারের মাধ্যমে জটিল অপারেশন আরও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। একই সঙ্গে গৃহস্থালি কাজে স্মার্ট রোবট মানুষের সময় ও শ্রম বাঁচাচ্ছে আর ডেলিভারি ও পরিবহন খাতে অসধুড়হ-এর মতো প্রতিষ্ঠান ড্রোন ও রোবট ব্যবহার করে দ্রুত সেবা দিচ্ছে।
কৃষিক্ষেত্রেও রোবট ফসল রোপণ থেকে সংগ্রহ পর্যন্ত নানা কাজে যুক্ত হয়েছে। ফলে বলা যায়, উন্নত দেশগুলোতে রোবট এখন শুধু প্রযুক্তি নয়, বরং মানুষের নির্ভরযোগ্য সহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে।
বিজ্ঞানীদের অনুমান, ২০৫০ সাল নাগাদ সারা পৃথিবীতে রোবটের সংখ্যা দাঁড়াবে কমবেশি ১০০ কোটি। অনেকেই একে প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বিপ্লব বলে মনে করছেন। যদিও একাংশের ধারণা, এর জেরে উল্টে মানুষের বাড়বে চ্যালেঞ্জ। কারণ, কারও সাহায্য ছাড়াই যদি মেশিন চলতে পারে এবং বংশবৃদ্ধি করতে পারে, তাহলে আগামীতে পৃথিবীতে মানুষের ভূমিকা কী হবে সেটা প্রশ্নের মুখে পড়তে যাচ্ছে।