মতলবে বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশন!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বড় দুর্গাপুর গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন এক তরুণী। মঙ্গলবার (৭এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত তিনি প্রেমিকের বাড়ির গেটে অবস্থান করছিলেন। সরেজমিনে বড় দুর্গাপুর মিয়াজী বাড়িতে গিয়ে যায় প্রেমিক সিয়াম হোসেন মিয়াজীর বাড়ির সামনে একটি চেয়ারে বসে অনশন করছেন প্রেমিকা ফাতেমা আক্তার। বাড়িতে তালা ঝোলানো রয়েছে। জানা গেছে, প্রেমিকের বাবা আমির হোসেন মিয়াজী মালয়েশিয়া প্রবাসী এবং মা খালেদা বেগম অন্য সন্তানদের নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। অভিযুক্ত প্রেমিক সিয়ামও পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (৫এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেন তরুণী ফাতেমা আক্তার। তিনি জানান, প্রায় চার বছর আগে একই স্কুলে পড়ার সময় সিয়ামের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। গত মাসে কয়েকবার তাদের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে সময় কাটান বলেও দাবি করেন তিনি। সর্বশেষ ঈদের দিন তারা একসঙ্গে ঘুরতে যান এবং পরদিন চাঁদপুর বড় স্টেশন এলাকায় সময় কাটানোর পর সিয়ামের এক বন্ধুর বাড়িতে রাত যাপন করেন। ওই রাতেও তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফাতেমা আক্তার বলেন, এখন সিয়াম আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এতে আমি চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছি। আমার সম্মান রক্ষার জন্য তার সঙ্গে বিয়ে ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সিয়াম ও তার পরিবার এ ঘটনার জন্য দায়ী। এছাড়া স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিকের বিরুদ্ধে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তিনি।

এ ঘটনায় ফাতেমা আক্তারের মা জোসনা বেগম মতলব উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সর্বনাশ করা হয়েছে। এখন বিয়ে না করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মানিক মিরাজ বলেন, ছেলেটি ও মেয়েটি একই এলাকার বাসিন্দা। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি থানায় অবহিত করা হয়েছে।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।