চাঁদপুরে সাড়ে ৬০০ গ্রাম ওজনের নবজাতকের বেঁচে ফেরার লড়াই

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

মাত্র সাড়ে ৬০০ গ্রাম ওজন নিয়ে জন্ম। চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল, এত কম ওজনের অপরিণত শিশুকে বাঁচানো অত্যন্ত কঠিন। তবে সেই আশঙ্কা পেছনে ফেলে প্রায় দুই মাসের নিবিড় চিকিৎসা ও পরিচর্যায় শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে নবজাতকটির। চাঁদপুর স্পেশালাইজড হাসপাতালের এনআইসিইউতে চিকিৎসা শেষে  ১৪ আগস্ট তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার ওজন ১ কেজি ১৫০ গ্রাম।

জানা যায়, জাকির ও তানজিনা দম্পতির যমজ সন্তানের জন্ম হয় গর্ভাবস্থার মাত্র পাঁচ মাসে। মায়ের শারীরিক জটিলতার কারণে ঢাকার একটি হাসপাতালে জরুরি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। জন্মের সময় দুই শিশুর প্রত্যেকের ওজন ছিল সাড়ে ৬০০ গ্রাম।

অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া দুই শিশুর একজন জন্মের পরপরই মারা যায়। অপর শিশুটিকেও বাঁচানো কঠিন বলে চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানান। তবে শেষ চেষ্টা হিসেবে গত ১৯ জুন শিশুটিকে চাঁদপুর স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আজিজ মিয়া ও ডা. রোমান মিজির তত্ত্বাবধানে শুরু হয় শিশুটির নিবিড় চিকিৎসা। এনআইসিইউতে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দেওয়া হয় বিশেষ পরিচর্যা। প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে অন্য মায়ের বুকের দুধও সংগ্রহ করা হয়।

ডা. আজিজ মিয়া বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের নিবিড় পরিচর্যা এবং পরিবারের ধৈর্যের ফলে ধীরে ধীরে শিশুটির অবস্থার উন্নতি হয়। প্রায় দুই মাসের চিকিৎসা শেষে তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে। এত কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুর এভাবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়া বিরল ঘটনা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চাঁদপুর স্পেশালাইজড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইয়ুম খান বলেন, হাসপাতালের এনআইসিইউতে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে এই শিশুটি ছিল সবচেয়ে সংকটাপন্ন। চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের চাঁদপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন বলেন, সংকটাপন্ন এই শিশুর চিকিৎসায় চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হয়েছে। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি সহযোগিতা ও প্রণোদনা বাড়ানো হলে এ ধরনের চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব।

এক সন্তান হারানোর বেদনার মধ্যেই আরেক সন্তানকে মৃত্যুর শঙ্কা থেকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে জাকির-তানজিনা দম্পতির পরিবারে।

শিশুটির বাবা জাকির বলেন, এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমাদের সময়গুলো অতিবাহিত হয়েছে। এক সময় মনে হতো আমার এই বাচ্চাটাও মনে হয় আল্লাহ নিয়ে যাবে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আর চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আমার বাচ্চা একটু একটু করে সুস্থ হচ্ছে। আপনার সবাই আমার বাচ্চার জন্য দোয়া করবেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত