শূন্যহাতেই ফিরতে হচ্ছে সাগরিকাদের

বড়দের পরিণতিই বরণ করতে হয়েছে ছোটদের। বড়দের ওমেন্স এশিয়ান কাপের মতোই অনূর্ধ্ব-২০ ওমেন্স এশিয়ান কাপের গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। গ্রুপের তিন ম্যাচে হার তাদের ছিটকে দিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই থেকে। মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ননথাবুড়ি স্টেডিয়ামে ভিয়েতনামের কাছে ১-০ গোলে হারে বড় দায় বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আকতারের। দ্বিতীয়ার্ধে তার শিশুতোষ ভুলে গোল খাওয়ার পর আর ফেরা হয়নি ম্যাচে।

স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হারে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের অভিষেক। দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে। সেই ম্যাচ ২-০ তে হারলেও প্রশংসা পেয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েদের খেলা। হারার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়াই বাংলাদেশকে শেষ আটের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। প্রথম দুই ম্যাচে কম গোল হজম করায় ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ ছিল তৃতীয় স্থানে। ভিয়েতনাম ছিল তলানিতে। ম্যাচটি ড্র করলেও সম্ভাবনা টিকে থাকত। তবে মিলির ভুলে স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে পিটার বাটলারের দলের।

শুরুতে ভালোই লড়াই করেছিল বাংলাদেশ। গোলের ভালো সুযোগ প্রথম বাংলাদেশই পেয়েছিল। ম্যাচের ১৩ মিনিটে সতীর্থের থ্রু ধরে গোলকিপারকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করা সাগরিকা। চেষ্টা করেছিলেন চিপ করে বল জালে জড়াতে। তবে শটটা ঠিকঠাক হয়নি, বল জমা পড়ে ভিয়েতনাম কিপার লি থি থুর গ্লাভসে।

 ২৬ মিনিটে আবারও থ্রু পাসে অফসাইড ফাঁদ ভেঙে চেষ্টা করেছিলেন সাগরিকা। তবে বলের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি। বাংলাদেশের আক্রমণ সামলে ভিয়েতনামও আক্রমণ চালিয়েছে। ২৯ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে এনগান থি থানের শট ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ভুলটা করে বসেন মিলি। ৪৯ মিনিটে মাঝ মাঠ হং মিনের ফ্রি-কিপ একটু এগিয়ে এসে গ্লাভসে জমাতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ কিপার। তবে তার গ্লাভস গলে বল বের হয়ে গেলে সুযোগ সন্ধানী থি থুই লিনহ গোলের আনুষ্ঠানিকতা সারেন। সেই লিড শেষ পর্যন্ত ধরে রেখে বাংলাদেশকে বিদায় করে কোয়ার্টারের আশা টিকিয়ে রেখেছে ভিয়েতনাম।

অস্ট্রেলিয়ায়ও একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল ঋতুপর্ণা চাকমা, মারিয়া মান্ডাদের। শেষ গ্রুপ ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে হার তাদের বিদায় করেছিল। এবার ভিয়েতনামের দুঃখ নিয়ে শূন্যহাতে দেশে ফিরতে হবে সাগরিকাদের।