প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, "আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।" এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
সোচ্চার হয়েছেন জলবায়ু আন্দোলনের অন্যতম মুখ সুইডিশ কর্মী গ্রেটা থানবার্গ। মঙ্গলবার (৭ মার্চ) যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক ভিডিওতে গ্রেটা বলেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্ট বললেন গোটা একটি সভ্যতা আজ রাতে মুছে যাবে — আর কেউ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না। এটাই সব বলে দেয়। এই মুহূর্তে কেউ আসলে কী করছে?"জলবায়ু ও গাজা ইস্যুতে সরব এই তরুণ কর্মী বলেন, গণহত্যা, গোটা জাতিসত্তার নিশ্চিহ্নকরণ এবং যুদ্ধাপরাধীদের দায়মুক্তি এখন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে উঠেছে — এটাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। তিনি দর্শকদের আহ্বান জানান এই পরিস্থিতিকে 'স্বাভাবিক' হিসেবে মেনে না নিতে।
শুধু গ্রেটাই নন, যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংশয় ও বিরোধিতা ক্রমশ বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকান দলের ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটারদের ৬৭ শতাংশ মনে করেন এই যুদ্ধ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখবে। অথচ ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ একই মত পোষণ করেন।
ডেমোক্র্যাট সমর্থক তরুণদের মধ্যেও হতাশার চিত্র স্পষ্ট। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৬০ শতাংশ তরুণ ডেমোক্র্যাট মনে করেন এই যুদ্ধে ইরানের সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যেখানে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই সংখ্যা মাত্র ৪৮ শতাংশ। এমারসন কলেজের জরিপেও দেখা গেছে, ৫০ বছরের কম বয়সীদের প্রায় ৭৫ শতাংশ আশঙ্কা করছেন আগামী চার বছরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।
ইতিহাসে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও এমনই প্রজন্মগত বিভাজন দেখা গিয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের প্রশ্নেও আমেরিকার তরুণরা তাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের চেয়ে স্পষ্টতই ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে।