মার্কিন মধ্যস্থতায় ইরানকে ঘিরে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লেবাননে প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আগের বক্তব্যের সঙ্গে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৮ মার্চ) নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে ইসরায়েল। একই সঙ্গে ইরান যেন আর যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র বা সন্ত্রাসী হুমকি হয়ে না ওঠে, সে লক্ষ্যেও ওয়াশিংটনের উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। তবে এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলেও স্পষ্ট করা হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে শেহবাজ শরিফ বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সব জায়গায়, কার্যকর হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে গত ২ মার্চ লেবানন জড়িয়ে পড়ে, যখন ইরানপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলায় লেবাননে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
এর আগে মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এ সমঝোতা হয়েছে বলে জানা যায়, যেখানে শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের কথা হয়েছিল।
শরিফ জানিয়েছেন, ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। এদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য তারা ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি মেনে নেওয়া, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।