এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার প্রস্তাব

ট্রাম্পের জারি করা গত বছরের এক জরুরি ঘোষণায় ওই ফি প্রথম আরোপ করা হয়; যা প্রযুক্তি, শিক্ষা ও গবেষণা খাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ভিসার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার করার একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ সোমবার (২৪ আগস্ট) এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারের অনলাইনে পোস্ট করেছে। এই নতুন নিয়মটি কার্যকর হলে প্রযুক্তি, শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পাবে।

ট্রাম্পের জারি করা গত বছরের এক জরুরি ঘোষণায় ওই ফি প্রথম আরোপ করা হয়; যা প্রযুক্তি, শিক্ষা ও গবেষণা খাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ভিসার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

গত জুন মাসে এক মার্কিন বিচারক এই ফি বেআইনি ঘোষণা করেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে তা সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা দেন। বোস্টনের এক আপিল আদালত বর্তমানে সেই রায় পর্যালোচনা করছেন। পাশাপাশি ওয়াশিংটন ডিসির একজন বিচারক প্রধান একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর আইনি চ্যালেঞ্জ যথাযথভাবে খারিজ করেছিলেন কি না, তা নিয়ে অন্য এক আদালতে বিচার চলছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের জারি করা ওই আদেশের মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর আগামী সেপ্টেম্বরে তা শেষ হতে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে এটি স্থায়ী বিধিমালার রূপ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) প্রস্তাবিত ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের এই সংক্রান্ত নিয়ম সোমবার ফেডারেল রেজিস্টারের অনলাইনে প্রকাশ করা হয়; যা মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৩০ দিনের গণপরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আইনটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাদারদের কাজের সুযোগ দেন। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ৬৫ হাজার সাধারণ এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়। আর এই ভিসার মেয়াদ থাকে তিন থেকে ছয় বছর।

ট্রাম্পের গত বছরের আদেশে কিছু এইচ-১বি ভিসার আবেদন খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। যদিও আগে সাধারণত এই ভিসার খরচ ছিল ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে।

• ভিসা কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক
রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প এবং এইচ-১বি ভিসার কর্মসূচির সমালোচকরা বলেছেন, অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করে কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে স্থানীয় আমেরিকানদের চাকরিচ্যুত করছে। অন্যদিকে দেশটির বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, কিছু বিশেষায়িত পদে যোগ্য আমেরিকান কর্মী না থাকায় এবং বৈশ্বিক সেরা মেধা আকর্ষণ করতেই এই ভিসা চালু রাখা জরুরি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭০টি প্রতিষ্ঠান মোট ৮৫টি ভিসা আবেদনের বিপরীতে ১ লাখ ডলার করে ফি প্রদান করেছে।

ফি আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প মার্কিন স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি নাগরিকের প্রবেশ ঠেকাতে দেওয়া প্রেসিডেন্টের বিশেষ আইনগত ক্ষমতা ব্যবহার করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্স, ডেমোক্র্যাট-শাসিত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন ও নিয়োগকর্তাদের একটি জোট এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাচ্ছে। চলতি সপ্তাহে প্রস্তাবিত নিয়ম চূড়ান্ত হলে এসব মামলায় সংশোধন এনে নতুন করে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে।

• আইনি জটিলতা ও কমেছে ভিসা আবেদন
মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষমতা এইচ-১বি ভিসা তৈরির মূল আইনকে অকার্যকর করার সুযোগ দেয় না। বাদী অঙ্গরাজ্য ও সংগঠনগুলো বলেছে, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এভাবে বাড়তি রাজস্ব আদায়ের জন্য কোনো ফি বা কর আরোপ করতে পারে না।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, এই ফি কোনো প্রথাগত কর নয় এবং বিদেশি নাগরিকদের দেশে প্রবেশের ওপর প্রেসিডেন্টের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষমতা পর্যালোচনা করার সুযোগ আদালতের খুব একটা নেই।

ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রভাব পড়েছে ভিসার আবেদনেও। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের (ইউএসসিআইএস) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নিয়োগকর্তারা প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার এইচ-১বি ভিসার নিবন্ধন করেছেন; যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২৫ শতাংশেরও বেশি কম এবং ২০২৩ সালের (৭ লাখ ৯৪ হাজার) আবেদনের অর্ধেকেরও কম।

এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি আবেদনকারীদের কঠোর ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বেশি বেতন ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভিসা দেওয়ার নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছে। চলতি আগস্টের শুরুর দিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পৃথক এক বিধিতে এইচ-১বি কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা অন্যান্য দেশে থাকা কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে বদলি করার আবেদনে সাড়ে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি যুক্ত করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত