৪৫ লাখ টাকা দেওয়ার পরও লিবিয়ায় নির্যাতনে মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ার বন্দিশালায় (স্থানীয়ভাবে ‘গেমঘর’) অমানবিক নির্যাতনে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার এক যুবক মারা গেছেন।

নিহত মো. জহিরুল আকন (২৫) উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ ধূয়াসার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের শামসুল হক আকনের ছেলে।

এ ঘটনা শোনার পর বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে শোকের ছায়া বিরাজ করছে নিহতের পরিবারে। সকাল থেকেই আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড় দেখা গেছে তাদের বাড়িতে। পরিবারের পক্ষ থেকে দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহতের লাশ দ্রুত দেশে আনা এবং আদায় করা সব টাকা ফেরতের দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ডাসার উপজেলার ধুলোগ্রামের হানিফ মাতুব্বরের ছেলে জাকির মাতুব্বর ও তারক দাস নামে দুই দালাল অল্প টাকার প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়া হয়ে সাগর পথে ইতালিতে লোক পাঠাতেন। তাদের প্রলোভনে পড়ে জহিরুল আকন ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রথমে ২৫ লাখ টাকা দেন।

প্রায় পাঁচ মাস আগে দালালরা তাকে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে একটি অন্ধকার বন্দিশালায় আটকে রাখে। সেখানে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে ভিডিও কলে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হতো। এভাবে দফায় দফায় মোট প্রায় ৪৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এরপরও অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় তাকে নির্মম নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে দালালদের মাধ্যমে জহিরুলের মৃত্যুর খবর আসে। এরপর থেকেই তার স্ত্রী, দুই কন্যা সন্তান, বাবা-মা ও স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের মাতম।

নিহতের স্ত্রী সাথী আক্তার বলেন, আমরা সব মিলিয়ে ৪৫ লাখ টাকা দিয়েছি। তারপরও আরও টাকা চেয়েছে। দিতে না পারায় আমার স্বামীকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। আমরা দালালদের বিচার চাই, আমার স্বামীর লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা চাই এবং আমাদের সব টাকা ফেরত চাই।

এদিকে একই দালাল চক্রের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার পথে ডাসার উপজেলার মধ্য ধুলোগ্রামের আসলাম সৈয়দের ছেলে ইমামুল সৈয়দ এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

ঘটনা জানাজানি হলে অভিযুক্ত দালাল জাকির মাতুব্বর ও তারক দাস গা ঢাকা দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তারক দাসের মা মিনতী দাস বলেন, আমার ছেলে অনেক লোককে বিদেশে পাঠিয়েছে, কিন্তু এই ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবার মামলা করলে তা গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধভাবে বিদেশ যাত্রার প্রবণতা রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।