আসামির স্বীকারোক্তি

শিশুকে নদে ছুড়ে, মাকে ধর্ষণের পর হত্যা

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

মাদারীপুরের শিবচরে শাম্পা খাতুন নামে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে জঙ্গলে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার আগে ওই নারীর কোলের এক বছর বয়সী শিশুকে আড়িয়াল খাঁ নদে ছুড়ে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলেও পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে গ্রেপ্তার হওয়া ফারুক নামে এক আসামি। শিশুটির মরদেহ এখনও উদ্ধার হয়নি।

১৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিবচর উপজেলার বাখরেরকান্দি এলাকায় দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদরাসার পাশের একটি জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়।

নিহত শাম্পা খাতুন (২৮) নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুর সদরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে শাম্পা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক বছর বয়সী ছেলে ছিল। ঘটনার দিন শাম্পার মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি তার শিশুসন্তানকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এঘটনায় নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিকার (২০ আগস্ট) শিবচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও র‌্যাব-৮ মাদারীপুরের সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও তাদের অবস্থান নির্ণয়ে অভিযান শুরু করেন।

একপর্যায়ে সন্দেহভাজন ফারুককে শনাক্ত করে তার বাখরেরকান্দির বাসায় অভিযান চালায়। পরে সেখানে থেকে নিহত শাম্পা খাতুনের ব্যবহৃত সোনার নাকফুল, রূপার গলার চেইন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘরের চুলা থেকে শাম্পার ওড়না পোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে ফারুক। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাম্পা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ বাখরেরকান্দি এলাকার জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়। এরপর তার কোলের এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদীতে ছুড়ে ফেলে হত্যা করা হয়।

শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন মাধ্যমে তদন্ত চালিয়ে ফারুককে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত