জামালপুরে হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কৃষক আক্তার হোসেন ওরফে আবেদীন হত্যা মামলায় আদালত দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এছাড়া একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আব্দুল মোতালেব (৩৫), হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের সবুজপুর গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে মো. রশিদ জামাল (৪০), একই এলাকার মৃত আইন উদ্দিনের ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন মো. আব্দুল লতিফ, মো. সুরুজ মিয়া, মো. আব্দুল হামেদ।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রশিদ জামাল এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন একই পরিবারের চার ভাই। খালাস পেয়েছেন সবুজপুর গ্রামের মো. আসাদ জামালের সন্তান মো. খোরশেদ আলম।

রায় ঘোষণার সময় প্রধান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মোতালেব পলাতক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের সবুজপুর গ্রামের আক্তার হোসেন ও তার পরিবারের সাথে আসামিদের দীর্ঘদিন সামাজিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে ২০০৭ সালের ২২ মে রাত সাড়ে ৮টায় সবুজপুর দাখিল মাদরাসার পাশে আক্তার হোসেনকে ডেকে আনা হয় এবং আসামিরা ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা ডাক-চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গেলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে যাওয়ার পথে আহত আবেদীন পরিবারের সদস্যদের সব ঘটনা জানিয়েছিলেন।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট দিদারুল ইসলাম জানান, নিহতের সন্তান সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩ থেকে ৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত ও সাক্ষীদের জবানবন্দি ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এছাড়া অর্থদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে। খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।