‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’

বিসিবি নিয়ে সংসদে বিতর্ক হাসনাত-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বলে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর করা মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, কোনো দখলদারত্ব নয়, বরং কৃতী ক্রিকেটার তামিম ইকবালের নেতৃত্বেই এখন বিসিবি পরিচালিত হচ্ছে।

গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ১১তম দিনের অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল-২০২৬’ নিয়ে আলোচনাকালে বিসিবি ইস্যুতে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ উতপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। মানবাধিকার কমিশনকে ‘দলীয়করণের’ শঙ্কা এবং বিসিবি-বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এ সময় উভয় নেতা একে অপরের প্রতি আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন।

বিলটির আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘সুরক্ষা ও দায়মুক্তির এই বিলে কমিশন বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বোঝানো হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক প্রতিরোধ আর ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সংজ্ঞাকে কে ডিফাইন করবে? এর ভার দেওয়া হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে ল্যাপস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদি এটি ২০০৯ সালের আইন অনুযায়ী চলে, তবে তা হবে পুরোপুরি সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি কমিশন, যা অতীতে বিরোধী দল দমনে ব্যবহার হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখছি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দখল করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন আর নেই, এটা হয়ে গেছে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’। যেভাবে দখল করা হয়েছে, ঠিক এ মুহূর্তে ২৮ জন বিচারককে তাদের ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে মতামত প্রকাশের কারণে শোকজ করা হয়েছে। এই বাস্তবতায় মানবাধিকার কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান আমরা কতটা পাব তা নিয়ে সন্দিহান। বিসিবির মতো আমরা আবার ‘বাপের দোয়া কমিশন’ দেখতে চাই না।”

বাপের দোয়া নয়, বিসিবি এখন তামিমের : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। এটি জুলাই যোদ্ধাদের অঙ্গীকারনামার অংশ। গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ ও তাদের পেটোয়া বাহিনী জুলাই যোদ্ধাদের ওপর যে নিপীড়ন চালিয়েছে, তার বিরুদ্ধে তাদের সুরক্ষা দেওয়া জরুরি।’

বিসিবি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বিলের মধ্যে ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড কীভাবে এলো? অন্তর্বর্তী  সরকারের সময় তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্ষমতার প্রয়োগ করে সারা বাংলাদেশে জেলা কমিটিগুলোকে প্রভাবিত করেছিলেন। বাংলাদেশে যেসব রেজিস্টার্ড ক্লাব ছিল, তাদের কাউন্সিলরদের প্রভাবিত করে সরকারি সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে একতরফাভাবে ক্রিকেট বোর্ডে একটি বডি করা হয়েছিল। হাইকোর্টে রিট নিষ্পত্তি না করেই এটা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটি রিপোর্টে বলেছে, যথেষ্ট অনিয়ম হয়েছে। ওই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে আগের বোর্ড ডিজলভড (ভেঙে দেওয়া) হয়েছে। এরপর একটি ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। অ্যাডহক কমিটি হয়েছে। কাকে দিয়ে হয়েছে? এই দেশের কৃতী ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে দিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটি বিধি মোতাবেক তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দেবে এ কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখানে বাপের দোয়া-মায়ের দোয়া করিনি। এতদিন শুনতাম মায়ের দোয়া পরিবহন আছে। আজকে  সংসদের কল্যাণে দেখলাম বাপের দোয়া কমিটি আছে।’

সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিসিবি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিলেন তদন্ত রিপোর্টে এমন প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে মঙ্গলবার বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় জাতীয় স্পোর্টস কাউন্সিল। একই সঙ্গে তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের। এ কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে সৈয়দ ইব্রাহীম আহমেদ এবং বিএনপির আরও দুই মন্ত্রী ও উপদেষ্টার ছেলেকে রাখা হয়েছে।