সংসদে বাগবিতণ্ডায় বিরোধী নেতা-স্পিকার-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে বিল পাসের আলোচনায় কথা বলার সময় বরাদ্দ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা, স্পিকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা ও যুক্তি-পাল্টা যুক্তি হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দুই মিনিট সময়কে ‘অপ্রতুল’ দাবি করা হলে স্পিকার অতীতের নজির টেনে সময় কিছুটা বাড়ানোর আশ্বাস দেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিধি মোতাবেক আলোচনা করার পরামর্শ দেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’ পাস হওয়ার পর কথা বলার সময় নিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘বিলে আমরা যেসব ডিসেন্ডিং অপিনিয়ন (ভিন্নমত) দিয়েছি, সেগুলো নিয়ে এখানে আলোচনা হচ্ছে। দুই মিনিট সময়ের ভেতরে কিছুই বলা সম্ভব নয়। ডিসেন্ডিং কেন দিলাম, তার প্রেক্ষাপট কী হওয়া উচিত—এসব বলার সুযোগ না দিলে ডিবেট (বিতর্ক) কোথায়? একদিকে আমাদের মাত্র দুই মিনিট দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে যারা বিল উত্থাপন করছেন (ট্রেজারি বেঞ্চ), তাদের আনলিমিটেড সময় দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কথা বলার সুযোগ না দিলে এখানে বসে লাভ কী?’ তিনি বিরোধী দলের জন্য পর্যাপ্ত সময় দাবি করেন। 

এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি সংসদের অতীত নজিরগুলোই অনুসরণ করে যাচ্ছি। আগে কোনো বিলে আপত্তি জানালে মাত্র দুই মিনিট সময় দেওয়া হতো। আজকে আমি ছয় মিনিট দিয়েছি। এরপর যদি আপনারা দফাওয়ারি সংশোধনী দিতেন, সেখানেও বলার জন্য দুই মিনিটই সময় থাকতো। তবুও আমি মনে করি সময় অল্প কিছু বাড়িয়ে দেওয়া যায়। ভবিষ্যতে যিনি আপত্তি উত্থাপন করবেন, তাকে সময় একটু বাড়িয়ে দেওয়া হবে।’

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ আলোচনায় যোগ দিয়ে বলেন, ‘বিশেষ কমিটির রিপোর্টে যেখানে নোট অফ ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দেওয়া হয়েছে, সেই বিলগুলো আনা শুরু হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার সেশন তিনটার পরে শুরু হবে এবং বেশ তাড়াহুড়ো থাকবে। বিরোধী দলীয় নেতা সময় বাড়ানোর যে দাবি তুলেছেন, সেই বিধি মোতাবেক আমরা ফয়সালা করতে চাই। নিয়ম অনুযায়ী আপত্তি উত্থাপনকারীদের একজনকে ফ্লোর দেওয়া হয়েছে এবং তিনগুণ সময় দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধী দলীয় বন্ধুরা ইচ্ছা করলে সেকেন্ড রিডিং বা থার্ড রিডিংয়ের সময় রুলস অফ প্রসিজার (কার্যপ্রণালী বিধি) অনুসরণ করে আলোচনার সুযোগ এক্সপ্লোর করতে পারেন। আপনারা আলোচনা করতে চাইলে বিধি অনুযায়ী যথেষ্ট সময় পাবেন। তবে আজকের জন্য একজন বক্তার জন্য ছয় মিনিট সময় দেওয়া যেতে পারে।’