লিগ শুরুর আশ্বাসে ক্রিকেটাররা স্বস্তিতে

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ২০২৫ সালের নির্বাচনকে অবৈধ দাবি করে ঘরোয়া লিগে অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিল ঢাকার বেশিরভাগ ক্লাব। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত কমিটি সেই নির্বাচনে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদকে ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। দায়িত্ব নিয়েই প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তামিম, শুরুর সম্ভাব্য সময়টা মে মাসের প্রথম দিকেই। বিসিবি সভাপতির এই উদ্যোগে আশঙ্কামুক্ত হন দেশের পেশাদার ক্রিকেটাররা।

বামহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম গত মৌসুমে খেলেছিলেন মোহামেডানের হয়ে। দেশ রূপান্তরকে তাইজুল জানিয়েছেন, বিসিবি সভাপতির উদ্যোগে অনেক ক্রিকেটারের দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে, ‘লিগ এক মৌসুম না হলে তো একটা বড় দুশ্চিন্তা, শুধু আমার না সব ক্রিকেটারেরই। সবারই রোজগারের একটা বড় উৎস প্রিমিয়ার লিগ। এখন লিগটা শুরু হওয়ার একটা আশ্বাসে আমাদের দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে।’ তাইজুল জাতীয় দলে খেলছেন ১২ বছর ধরে, আছেন বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে, ‘বি’ গ্রেডে মাসিক বেতন ৬ লাখ টাকা। তাইজুলের মতো যারা কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আছেন, তাদের না হয় বিকল্প একটা অর্থের উৎস আছে। যারা জাতীয় দলে নেই কিংবা বিপিএলের খুব চড়া মূল্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা যাদের দলে নেয় না; সেসব তরুণ উঠতি ক্রিকেটারদের জন্য প্রিমিয়ার লিগ শুধু অর্থ রোজগারেরই জায়গা নয়, নিজের পরিচিতি বাড়ানোরও মঞ্চ। লিগ শুরুর ইতিবাচক সংবাদে তাদের মনেও স্বস্তির সুবাতাস।

মাহফুজুর রহমান রাব্বি, ২০২৪ সালে তার নেতৃত্বে যুব বিশ্বকাপে খেলেছে বাংলাদেশ। সবশেষ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর হয়ে খেলেছেন রাব্বি, ১৬ ম্যাচে ২৩৬ রান এবং ১৯ উইকেট নিয়ে শিরোপা জয়ে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিপিএলে খেলেছেন ১ ম্যাচ, অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপ ও বিসিএল ওয়ানডেতেও জায়গা পাননি। রাব্বি জানালেন, এই মৌসুমে লিগ না হলে হয়তো খেলাই হতো না লম্বা সময় ধরে, ‘আমরা যারা ক্রিকেট খেলি, আমাদের তো অন্য আর কোনো পেশা নেই। লিগ না হলে প্রথমত যেটা হবে যে, লম্বা সময়ের জন্য অনেকে খেলার বাইরে থাকবে। এটা আমার মতো আরও যারা আছে, তাদের সবার জন্যই খুব খারাপ। অর্থনৈতিক ব্যাপারটা তো আছেই। ক্রিকেটারদের বছরের আয়ের একটা বড় অংশই আসে লিগ খেলে। আমার সঙ্গে যেসব ক্রিকেটারের কথা হতো, সবার মধ্যেই এটা নিয়ে একটা দুশ্চিন্তা ছিল। এখন সেই দুশ্চিন্তাটা কেটে যাবে।’

দেরিতে শুরুর কারণে এই বছর হবে না সুপার লিগ, ১২ দলের অংশগ্রহণে ১১ ম্যাচেই হবে শিরোপার নিষ্পত্তি। ম্যাচ সংখ্যা কমলে পারিশ্রমিকও কমবে, সেই আশঙ্কা না করে খেলা মাঠে গড়ানোটাকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ও প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেলা ব্যাটসম্যান শাহাদাত হোসেন দীপু, ‘লিগে ম্যাচ কমলে টাকা কম হবে কি না এটা তো এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একটা মৌসুম লিগ হলে কেউ ১০ লাখ টাকা পায়, কেউ ২০ লাখ, কেউ ৪০ লাখ। না হলে তো পুরোটাই ক্ষতি। আমি এখন জাতীয় দলে নেই, আমাকে তো ক্রিকেট খেলেই রোজগার করতে হবে।’ মাঠে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স রাখার আশ্বাসটাও চিন্তামুক্ত করেছে দীপুকে, ‘এখন গরমের সময়, কিছু দিন আগে বিপিএলের সময় একজন কোচ (মাহবুব আলি জ্যাকি) মারা গেলেন। আমরা তো আর মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে পারব না; তবে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থাটা করা গেলে ভালো।’

সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির চুক্তিবদ্ধ কোচ রাজিন সালেহ গত বছরের মতো এই বছরও কোচিং করাবেন অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে। রাজিন জানালেন, এক মৌসুম লিগ না হলে শুধু ক্রিকেটারই নন, ক্ষতিগ্রস্ত হন কোচ, ফিজিওসহ সাপোর্ট স্টাফরাও, ‘আমি প্রথমেই তামিম ইকবালকে ধন্যবাদ জানাই দায়িত্ব নিয়েই ঢাকা লিগটা চালু করার জন্য। শুরুতেই খেলা মাঠে রাখার উদ্যোগকে সাধুবাদ। এক মৌসুম লিগ না হলে শুধু খেলোয়াড়রাই নাকোচ, ফিজিওথেরাপিস্টসহ সাপোর্টিং স্টাফ আরও যারা আছেন, তারাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ এটাই তো আমাদের রুটিরুজি। লিগ শুরু হওয়ার সংবাদে সবার মনেই স্বস্তি, উৎসবের আমেজ।’