ভারতের সাংবাদিক বোরিয়া মজুমদারের সাথে সাক্ষাৎকারে বরেণ্য ক্রিকেট প্রশাসক, বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সিইও সৈয়দ আশরাফুল হক নবনির্বাচিত বিসিবি সভাপতির করণীয় পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। এখানে তা তুলে ধরা হলো:
বিসিবি সভাপতি হিসেবে তামিম ইকবাল সম্পর্কে আপনার ভাবনা কী?
সৈয়দ আশরাফুল হক: তার সভাপতি হওয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত, তবে সময়টা আদর্শ নয়। অতীত রেকর্ড বলে, একজন ক্রিকেটার ক্রিকেট সংস্থা পরিচালনা করলে তা সবসময়ই ভালো হয়। আমি একজন আশাবাদী মানুষ এবং ইতিবাচক চিন্তা করতে পছন্দ করি।
ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী দেখছেন? ভারত কি বাংলাদেশ সফরে আসবে?
আশরাফুল: হ্যাঁ, আমি মনে করি সফরটি হবে। ভারতীয় বোর্ডের সাথে সঠিক যোগাযোগ প্রয়োজন। বাংলাদেশের মতো একটি উদীয়মান ক্রিকেট জাতি ভারতের মতো পরাশক্তির সমর্থন ছাড়া টিকে থাকতে পারবে না। ভারত বাংলাদেশ সফর না করলে তা বিসিবির জন্য ভালো হবে না।
আইপিএল সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।
আশরাফুল: আইপিএল চেয়ারম্যানও বলেছেন যে মুস্তাফিজুর রহমানের সাথে যা ঘটেছে তা ঠিক ছিল না। এখন তামিম এবং তার সহকর্মীদের দায়িত্ব হলো ভারত ও অন্যান্য ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক মজবুত করা।
আসিফ নজরুল এবং বুলবুল বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ কেড়ে নিয়েছেন। আপনি কি ক্ষুব্ধ?
আশরাফুল: হ্যাঁ। আমি অবাক হয়েছি যে বুলবুল কোনো প্রতিবাদ না করেই আসিফ নজরুলের ফাঁদে পা দিলেন। তিনি যদি আয়োজকদের সাথে আইনি চুক্তি মেনে চলতেন এবং খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপে যাওয়ার ইচ্ছাকে সমর্থন করতেন, তবে সরকার হয়তো তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করত।
নির্বাচনের পর ভারত-বিরোধী মনোভাব কি বদলেছে?
আশরাফুল: হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি এটি বদলেছে। বাংলাদেশের জন্য এই নির্বাচন আয়োজন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
খেলোয়াড় থেকে সরাসরি প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ছাড়া সভাপতি—তামিম ইকবালের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?
আশরাফুল: গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তার উচিত অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করা।
সাকিব আল হাসানের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে বলে মনে করেন?
আশরাফুল: আমি মনে করি সে বাংলাদেশের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবে, তবে খুব বেশিদিন নয়। বয়স তার পক্ষে নেই। ফিট থাকলে তাকে আরও এক বা দুই বছর খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি তাকে তার বিরুদ্ধে থাকা বাণিজ্যিক মামলাগুলোও মোকাবিলা করতে হবে।
আপনার কি মনে হয় বুলবুলকে গুরুত্বের সাথে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে?
আশরাফুল: নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত হয়েছে। কেন বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে গেল না, তা জানার জন্য আরেকটি তদন্ত হওয়া উচিত। ক্রিকেট ভক্তদের নেপথ্যের ঘটনা জানানোর জন্য এটি প্রয়োজন।
যদি আসিফ নজরুলকে এর জন্য দায়ী করা হয়?
আশরাফুল: আমি তাত্ত্বিকভাবে বলছি, তাই বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে তাকে দায়ী করা হলেও হয়তো খুব বেশি কিছু ঘটবে না—কিন্তু অন্তত সাধারণ মানুষ সত্যটা জানতে পারবে।
আপনি কি কোনো খেলোয়াড়ের সাথে কথা বলতে পেরেছেন?
আশরাফুল: তারা খুব হতাশ। বিশেষ করে সিনিয়র খেলোয়াড়রা হয়তো আর বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবেন না। তারা বেশি হতাশ কারণ একজন বিশিষ্ট ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও এমনটা ঘটেছে।
আপনি কি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সাথে কথা বলেছেন?
আশরাফুল: আমরা একই সংস্থায় কাজ করেছি এবং খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। তিনি আগে পরামর্শের জন্য আমাকে কল করতেন, এমনকি সভাপতি হওয়ার পর দোয়া নিতে আমার বাসায় এসেছিলেন। কিন্তু এরপর তিনি আর যোগাযোগ রাখেননি। প্রশাসক হিসেবে তিনি কিছুটা সরল, তবে ক্রিকেট শিক্ষক হিসেবে চমৎকার। কিন্তু আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সত্ত্বেও যোগাযোগ না রাখাটা আমার জন্য কিছুটা মানহানিকর ছিল।
বিসিসিআই-কে আবারও বাংলাদেশের পাশে পেতে আপনার পদক্ষেপ কী হতো?
আশরাফুল: আমি তামিম ইকবাল হলে সরাসরি সভাপতি বা সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করতাম। সরাসরি সম্ভব না হলে রজার বিনির মতো কারো মাধ্যমে যেতাম, যিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাথে দীর্ঘকাল কাজ করেছেন এবং আমাদের খেলোয়াড়দের পরিচিত। আমাদের একটা পথ খুঁজে বের করতে হবে। আমি জয় শাহর কাছেও যেতাম, কারণ বিসিসিআই-তে তার অনেক প্রভাব।
তামিম এটা করবেন—এ ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?
আশরাফুল: তামিমের উচিত অবিলম্বে এই বিষয়ে কাজ করা। বিসিবির একটি সমস্যা হলো এর গঠনতন্ত্র এমনভাবে তৈরি যে ক্ষমতাসীন দলই বোর্ডে ক্ষমতায় থাকে। তাকে এই নিয়ম পরিবর্তনের জন্যও কাজ করতে হবে।