গাইবান্ধায় সাঁওতালদের সমাবেশে হামলা, আহত ৫

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকায় সাঁওতালদের সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ রবিবার দুপুরে এই হামলায় পাঁচ সাঁওতাল নেতা আহত হন। আহতদের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার এবং জমি ফেরতের দাবিতে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রবিবার দুপুরে তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার এবং সদ্য পাশ হওয়া ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা আইন অনুযায়ী বাপ-দাদার জমি ফেরতের দাবিতে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকায় গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়কে এক বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। আধা ঘণ্টা সমাবেশ চলার পর দুপুর একটার দিকে কিছু ব্যক্তি লাঠি নিয়ে সমাবেশে হামলা চালায়।

হামলায় সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে, সাধারণ সম্পাদক বিটিশ সরেন, সদস্য শিউলী মার্ডি, লুকাস মুরমু এবং রিপন বেশরা আহত হন। আহতদের মধ্যে শিউলী মার্ডি ও লুকাস মুরমু মাথা ও হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যরা মারপিটের শিকার হলেও জখম হননি।

এদিকে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে। তিনি অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চলাকালে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে কর্মসূচি পণ্ড করা হয়েছে। সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকার ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির একাংশের নেতা স্বপন শেখ, সাবু ও জাফরুল এর নেতৃত্বে একটি দল এই হামলা চালিয়েছে। তিনি ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর তিন সাঁওতালকে হত্যার বিচার এবং সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকার জমি প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। তিনি আরও জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পবিত্র কুমার মুঠোফোনে বলেন, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি গঠন নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার বিষয়ে কোনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির একাংশের নেতা স্বপন শেখের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অপর দুইজনের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।