ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই প্রেসিডেন্ট ফোনে কথা বলেন।
রাশিয়ার বার্তাসংস্থা ইন্টারফেক্স এক প্রতিবেদনে জানায়, ভেস্তে যাওয়া যুদ্ধবিরতি পুনরায় শুরু করতে মধ্যস্থতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মীমাংসায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে গুরুত্বারোপ করেছেন।
দুই নেতার ফোনালাপের একটি বিবরণ গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে ক্রেমলিন। এতে বলা হয়েছে, ভ্লাদিমির পুতিন সংঘাতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে এবং স্থায়ী শান্তি অর্জনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় আরও সহায়তা করতে চান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সহায়তার জন্য তাঁর প্রস্তুতিও আছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা স্পুটনিক তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ফোনালাপে মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদে হওয়া আলোচনার বিষয়ে পুতিনকে অবহিত করেন। রাশিয়ার নীতিগত অবস্থান ও মানবিক সহায়তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। ফোনালাপে দুই নেতা প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। রবিবার সংস্থাটির পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র আনুয়ার এল আনুনি ইসলামাবাদ সংলাপের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর আরও প্রচেষ্টায় ব্রাসেলস অবদান রাখবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের ৪০ দিন পর, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, তেহরান আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব’ রেখে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এখন দেখা যাক, ইরান এটি গ্রহণ করে কি না, বলেন ভ্যান্স।
ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর একটি সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন শেষে ভ্যান্স সদলবল ইসলামাবাদ ছাড়েন।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পরবর্তী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ বেশ কয়েকটি পোস্ট করেন তিনি। গালিবাফ বলেন, আলোচনার এই পর্বে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু এখন এটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের আস্থা অর্জন করতে পারবে কি না!