প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড উদ্বোধন করতে চাচ্ছে সরকার। আগামী চার বছরের মধ্যে সব কৃষককে এ সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্ডে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বছরে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়াও আরও ১০ ধরনের সুবিধা মিলবে এ কার্ডের মাধ্যমে।
শুরুর এ দফায় ২২ হাজার ৬৫ কৃষক, মৎস্যচাষি বা আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধখামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির সব কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া লবণ চাষিরাও এতে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা প্রণোদনা ও সেবা গ্রহণ করবেন; সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে সরবরাহ করা POS (point of sale) মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য বা প্রাণিখাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ক্রয় করতে পারবেন।
কৃষক কার্ডে মূল ১০ সেবা
ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি
ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা প্রাপ্তি
সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রাপ্তি
স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি
সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রাপ্তি
মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য প্রাপ্তি
কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রাপ্তি
ফসলের রোগবালাই দমনের পরামর্শ প্রাপ্তি
কৃষি বীমা সুবিধা প্রাপ্তি এবং
ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা প্রাপ্তি
এদিকে প্রাক-পাইলট পর্যায়ে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক ও জামালপুর জেলার, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক এ কার্যক্রম উদ্বোধন হবে।
আগামী পহেলা বৈশাখ নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ের ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন তিনি ।
তিনটি পর্যায়ে এ কার্ড দেওয়া হবে। প্রথম দফায় প্রি-পাইলটিং, যা পহেলা বৈশাখে শুরু হচ্ছে। এরপর পাইলটিং এবং তারপর সারা দেশে সব কৃষক এ কার্ডের অন্তর্ভুক্ত হবেন। সারা দেশের প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ কৃষক অন্তর্ভুক্ত হবেন। আগামী ৪ বছরের মধ্যে দেশব্যাপী এই কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল কৃষি সেবা চালু করা হবে।