ভোজ্য তেলের দাম বাড়ছে না তবুও সংকট, বাড়তি দাম

সরবরাহকারীদের পক্ষ থেকে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও আপাতত পণ্যটির দাম বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গতকাল রবিবার খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ভোজ্য তেল সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তবে দাম না বাড়ানোর ঘোষণা এলেও ঢাকার বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট কাটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। নিত্যপণ্যের বাজার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার বেশিরভাগ দোকানেই বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই বললেই চলে।

বেশি দামে বিক্রির আশায় কোনো কোনো দোকানি দোকান থেকে তেল সরিয়ে রেখেছেন। আবার অনেক দোকানি তেলের সঙ্গে অন্যান্য পণ্য বিক্রি সাপেক্ষে তেল বিক্রি করছেন। এ নিয়ে অনেক দোকানির সঙ্গে ক্রেতাদের কথা কাটাকাটি হতে দেখা যাচ্ছে।

জানা গেছে, রোজার ঈদের পর থেকে বাজারে ভোজ্য তেলের সরবরাহ কমতে থাকে। বিশেষ করে মধ্যপ্রচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে আমদানি খরচ বৃদ্ধির ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। গত ৯ এপ্রিল থেকে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে রেখেছিল মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। এর কয়েকদিন আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে তারা এ প্রস্তাব দিয়েছিল।

গতকাল সংগঠনটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ সময় দেশের মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা কারণে শঙ্কার মধ্যে আছে। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে, এর মধ্যে যেন কোনো পণ্যের দাম না বাড়ে। সেটি লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।

তিনি বলেন, ভোজ্যতেল নিয়ে আমরা নিয়মিত বসি। এটি একটি সংবেদনশীল পণ্য। এটির দাম বাড়লে ক্রেতারা নাখোশ হোন। এ জন্য নিয়মিত বিরতিতে আমরা দেশের তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি, আমদানি পর্যালোচনা করি। তবে এ বৈঠকে দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো বলার মতো কোনো কিছু হয়নি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে দাম না বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তবে ভোজ্য তেল সরবরাহকারীদের দাম না বাড়িয়ে মুনাফা সমন্বয়ের জন্য কিছু বাড়তি সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে সে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।

বাজারে মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন : ঢাকার বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগ দোকানেই বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই বলে জানিয়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। কোনো কোনো দোকানে তেল থাকলেও তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যারা অন্য পণ্য নেওয়ার শর্তে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তেল বিক্রি করছেন বিক্রেতা।

মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টের তুহিন মসলা ঘরের বিক্রেতা শফিকুল গত শনিবার রাতে সয়াবিন তেল নেই বলে অনেক ক্রেতাকেই ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। তবে একজন তার দোকান থেকে কিছু সামগ্রী নেওয়ায় তার কাছে লুকানো জায়গা থেকে দুই লিটারের একটি বোতল বিক্রি করেন।

জানতে চাইলে এই দোকানি বলেন, ‘বোতল সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম। কিন্তু চাহিদা অনেক। তাই পরিচিত কিছু ক্রেতার কাছে তেল বিক্রি করছি যারা নিয়মিত আমার দোকান থেকে পণ্য নেন, তাদের দিচ্ছি।’

এই অবস্থা শুধু বাড্ডার নয়, পুরো ঢাকা শহরের। তেল এখন সোনার হরিণ হয়ে উঠেছে। বিক্রেতাদের অভিযোগ ব্যবসায়ীরা বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ করছে না। যে কারণে গ্রাহকরা তেল পাচ্ছেন না। হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাড্ডার এক ক্রেতা জানান, তিনি ৫ থেকে ৬টি দোকান ঘুরেও বোলতজাত তেল কিনতে পারেননি। সবাই বলেছে তেল নেই। পরে বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়ে খোলা সয়াবিন তেল কিনেছেন।

জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ভোজ্য তেল সরবরাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবনা দিয়েছেন। যা গতকালের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে অনুমোদন হয়নি। সরবরাহকারীদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৭ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ১৯৫ টাকা। এ ছাড়া ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৯৫৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮৫ টাকা, পাম তেল বর্তমান নির্ধারিত দাম ১৬৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১৭৭ টাকা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, সে হিসেবে দেশেও সমন্বয় করা উচিত। এ কারণে ব্যবসায়ীরা বাজারে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন।