দায়িত্ব নিয়ে মোহামেডানকে ২০২৩ ফেডারেশন কাপ জিতিয়ে চমকে দিয়েছিলেন। এরপর গত মৌসুমে সাদা-কালোদের প্রথমবারের মতো দেন পেশাদার লিগ শিরোপার স্বাদ। অথচ মোহামেডানের ইতিহাসে অন্যতম সফল কোচ আলফাজ আহমেদকে সরিয়ে দেওয়া হলো ব্যর্থতার দায়ে। মোহামেডান পারেনি গত বছরের সাফল্যের ধারা ধরে রাখার মতো দল গড়তে। ভাঙাচোরা দল নিয়ে পুরো মৌসুম ধুঁকছিলেন আলফাজ। সর্বশেষ শুক্রবার কুমিল্লায় চিরবৈরী আবাহনীর কাছে হারে মোহামেডান থেকে গেছে অবনমন অঞ্চলে। এ অবস্থায় ব্যর্থতার দায় আলফাজে চাপিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছেন মোহামেডান কর্তারা। তার সহকারী আব্দুল কাইয়ুম সেন্টুকে দেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তী কোচের দায়িত্ব। আর দুঃসময় ঘোচাতে সাবেক ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবুকে দেওয়া হয়েছে দলনেতার দায়িত্ব।
সহকারী কোচ হিসেবে ২০২০ সালে প্রিয় ক্লাব মোহামেডানে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড। প্রথমে শফিকুল ইসলাম মানিক ও পরে ব্রিটিশ কোচ শন লেনের ডেপুটি হিসেবে কাজ করেন। এরপর ব্রিটিশ কোচ দায়িত্ব ছাড়লে ২০২৩ সালে প্রধান কোচের দায়িত্ব পান আলফাজ। দায়িত্ব নিয়েই আবাহনীকে হারিয়ে মোহামেডানকে ফেডারেশন কাপ জেতান তিনি। পরের মৌসুমে লিগ রানার্স-আপ করেন দলকে। এরপর ২০২৪-২০২৫ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানকে এনে দেন কাক্সিক্ষত শিরোপা। সেই শিরোপায় অবশ্য ভাগ্য বদলায়নি ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির। নেতৃত্ব সংবটে পরের মৌসুমে সেরা দল গড়তে ব্যর্থ হয় তারা। সুলেমান দিয়াবাতের মতো স্ট্রাইকার বাধ্য হন মোহামেডান ছাড়তে। খর্ব শক্তির দল নিয়ে মৌসুমের শুরু থেকেই ভুগছিলেন আলফাজ। লিগে ১২ ম্যাচে মোহামেডান জিতেছে মাত্র ২টিতে। ১১ পয়েন্ট নিয়ে ১০ দলের টেবিলে আছে সাতে। তলানিতে থাকা আরামবাগের সঙ্গে তাদের ব্যবধান মাত্র ২ পয়েন্ট। টানা সাত ম্যাচ জয় বঞ্চিত মোহামেডান, সর্বশেষ জয় পেয়েছিল পিডব্লিউ’র বিপক্ষে।
লিগের আর ছয় ম্যাচ বাকি আছে। অবনমন ঠেকাতে তাই পরের ম্যাচগুলোতে পা হড়কানো যাবে না। তাই আলফাজে আর আস্থা রাখতে পারেনি ক্লাব কর্র্তৃপক্ষ। নতুন পরিচালনা পর্ষদের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘আলফাজ আমাদের ক্লাবের সাবেক খেলোয়াড়। তবে এখন তো আমাদের ব্যক্তিস্বার্থ দেখলে চলবে না। দল ঝুঁকিতে আছে। তার অধীনে ফল আসছে না। তাই ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে তাকে সরাতে হয়েছে। ক্লাবের ডিরেক্টর স্পোর্টসকে (মোস্তাকুর রহমান) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আলফাজের বিরুদ্ধে ওঠা কিছু অভিযোগ খতিয়ে দেখতে। অভিযোগ ছিল সে নাকি তার পছন্দের খেলোয়াড়দের শুধু খেলায়। অভিযোগের সত্যতা মেলায় তাকে অব্যাহতি দিয়ে সেন্টুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর আমিরুল ইসলাম বাবুকে করা হয়েছে দলনেতা।’
আলফাজ অবশ্য ক্লাবের সিদ্ধান্তকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিয়েছেন, ‘বিশ্বজুড়েই ব্যর্থ হলে কোচদের চাকরি যায়। আমার ক্ষেত্রেও এটাই হয়েছে, তাই এতে মন খারাপের কিছু নেই। কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। পাশাপাশি আমার সম্মানীটা যাতে ঠিকঠাক বুঝিয়ে দেওয়া হয়, ক্লাবের প্রতি সেই আহ্বান জানাই। ১০ মাসের চুক্তির মধ্যে ৯ মাস চলছে। মাত্র ২ মাসের বেতন পেয়েছি। বাকিটা কবে পাব, অব্যাহতির চিঠিতে কিছুই জানানো হয়নি।’
মোহামেডানে বেতন বকেয়া নৈমেত্তিক ব্যাপার। এটা কোচদের ক্ষেত্রে যেমন, খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও। দলের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে আলফাজ বলেন, ‘আমরা তো দলবদলেই পিছিয়ে পড়ি। এত বছর তিল তিল করে গড়ে তোলা দলটা এবার ভেঙে গেল। আর্থিক সংবটে আমরা আমাদের অনেক খেলোয়াড়কে হারিয়েছি। তাছাড়া মোজাফফরভ ছাড়া বিদেশি যারা খেলেছেন, তারা নিজের সেরাটা দিতে পারেননি। গত মৌসুমে রহমতগঞ্জের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা স্যামুয়েল বোয়েটাংয়ের পারফরম্যান্স এবার নেই বললেই চলে। তাছাড়া খেলোয়াড়রাও ঠিকঠাক বেতন পায়নি। সব মিলিয়ে মাঠে সেরাটা কেউ দিতে পারেনি।’
অবনমনের লজ্জা থেকে বাঁচতে এখন মোহামেডানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদেরই আরেক ঘরের ছেলে সেন্টুকে। আলফাজের ডেপুটি হিসেবে এতদিন কাজ করা সেন্টু দলকে কতটা রক্ষা করতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।