আইনমন্ত্রী বললেন

১৬ অধ্যাদেশ নিয়ে অস্পষ্টতা, অস্বচ্ছতা নেই

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি, সেগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। এর মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রয়েছে। কিন্তু সরকার এসব অধ্যাদেশ বাদ দিয়েছে বলে কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।

আইনমন্ত্রী বলেন, ১৬টি অধ্যাদেশ নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা ও অস্বচ্ছতা নেই। এ বিষয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ৯৭টি হুবহু বিল আকারে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি অধ্যাদেশ সংশোধনী আকারে এনে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। সাতটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজত করা হয়েছে। বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন মোতাবেক অধিকতর যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনেও বলা আছে।’

অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে আসাদুজ্জামান  বলেন, ‘যারা বলছেন, আমরা শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন চাই না, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় চাই না, বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা চাই না, তাদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে, বিএনপি তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এসব আইনকে আরও বেশি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও যুগোপযোগী করতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বিলের ব্যাপারে আমরা যেটা বলেছি, অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। আমরা যে সাতটি অধ্যাদেশের রহিতকরণ ও হেফাজত বিল করেছি, তার মধ্যে উদাহরণ হিসেবে বলি, মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন।’ এই তিনটি আইনেরই আমরা যখন একটা আইন বিল আকারে দিই, তখন একটা প্রিয়েম্বল (প্রস্তাবনা) থাকে যে, আইনটা কেন আমরা দিচ্ছি। সেখানে একটা কারণ-সংবলিত বিবৃতি দিতে হয়। সেটা কেন দিচ্ছি? এই বিলগুলোর মধ্যে আমরা পরিষ্কার বলেছি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের বিলে বলেছি, ‘যেহেতু জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০০৫ এর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।’

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশেও আমরা বলেছি, ‘যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ২০০৫-এর বিধানাবলি অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন’ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিষয়েও বলেছি,  ‘যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন’ বলেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে কোনো অস্পষ্টতা, অস্বচ্ছতা রাখিনি। আমাদের সংসদের কাছে আইনের মাধ্যমে যখন বিলটা উপস্থাপন করছি, এটা পাস হয়ে যাচ্ছে, আইনে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। রহিতকরণ বিল হলেও এটা কিন্তু আইনে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।’ সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।