২০ বছর পর নিজ বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী

হামাকেরে ছোল প্রধানমন্ত্রী হয়্যা বাড়িত আসিচ্চে

‘হামাকেরে ছোল প্রধানমন্ত্রী হয়্যা বাড়িত আসিচ্চে, হামরা ম্যালা খুশি। ম্যালা কষ্ট করিচে, এ্যাকন দ্যাশের প্রধানমন্ত্রী হচে। বাপ মায়ের লাগান মানুষের জন্নি কামকাজ করবি- এমনটা বলছিলেন বাগাবাড়ি গ্রামের ৮৫ বছর বয়সী রোকেয়া বেগম।

রোকেয়া বেগমের মত অনেকে খুশি, তারেক রহমান নিজের পৈতৃক ভিটায় যাচ্ছেন। এই প্রতীক্ষা দীর্ঘ ২০ বছরের। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৈতৃক ভিটায় যাচ্ছেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে গাবতলীর বাগবাড়ি গ্রামেই শুধু নয় পুরো জেলা জুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে ব্যাপক প্রস্তুতিও নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ইতোমধ্যে সফরের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ১০ এপ্রিল প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল বাগবাড়ি এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানিয়েছেন যে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে ২০ এপ্রিল তার বগুড়া আসার কথা রয়েছে। ওইদিন তিনি বগুড়া জজকোর্টের একটি কার্যক্রমে অংশ নেবেন। পরে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে তার পৈতৃক ভিটায় যাবেন।

তিনি জানান, জিয়াউর রহমানের গ্রাম হাসপাতালও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন এবং নিজ বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি খাল খননের উদ্বোধনের কথা রয়েছে। 

ডিসি তৌফিকুর রহমান বলেন, আমরা অন দ্য স্পট গিয়ে সুবিধা ও অসুবিধাগুলো চিহ্নিত করেছি। আমাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ইউএনও ও অন্যান্য কর্মকর্তা ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পিএম অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।

এদিকে প্রিয় নেতা ও বাড়ির প্রধানমন্ত্রীর আগমনে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আমাদের বগুড়ার ছোল তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের বাড়িতে আসছেন, এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। খালটি খনন হলে এলাকার অনেক উপকার হবে। তবে আমাদের প্রাণের দাবি, স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

এসময় এক প্রকার অভিযোগ করে তারা বলেন, এর আগে প্রভাবশালীরা খাল জবরদখল করে রাখায় সাধারণ মানুষ সুফল পেত না। এখন সরকারি উদ্যোগে খাল খনন হলে সবাই এর সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

গাবতলী পৌর বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ এলাকায় আসছেন। জিয়াউর রহমানের এলাকায় হওয়ায় বিগত সরকার কোন উন্নয়ন করেনি। এখানকার উন্নয়ন থমকে আছে। এলাকার রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য তার এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান বলেন, আমাদের অভিভাবক তারেক রহমান আসছেন। তাকে বরণ করে নিতে গোটা বগুড়াবাসী প্রস্তুত।

এদিকে বগুড়াবাসী মনে করছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বগুড়ার উন্নয়নে একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে। ১৭ বছরের উন্নয়ন বঞ্চিত বগুড়াকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে উঠবে।