সড়কের কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ, প্রকৌশলীকে ধাওয়া!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। প্রায় ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি স্থানীয়ভাবে তদারকি করছিলেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় সোমবার (১৩এপ্রিল) এলজিইডির একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রকৌশলীরাও।

পরিদর্শনের এক পর্যায়ে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঠিকাদার লোকমান হোসেন উপস্থিত সবার সামনেই তাকে লাঞ্ছিত করেন। ভুক্তভোগী প্রকৌশলী জানান, কাজের অনিয়ম ধরিয়ে দেওয়ায় ঠিকাদার তাকে মারধরের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে হাতে বাঁশ নিয়ে তার দিকে তেড়ে যান এবং  ধাওয়া করেন। এ সময় তিনি দৌড়ে আত্মরক্ষা করেন।

এ ঘটনা মুঠোফোনে অনেককেই ভিডিও করতে দেখা যায়। ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার লোকমান অত্যন্ত প্রভাবশালী। মামলা করলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতে পারে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি । তিনি বলেন, দ্রুত এখান থেকে বদলির চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তার ওপর হামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয়  সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান বলেন, সরকারি কর্মকর্তার ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আমি পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি, হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছি। ঘটনাটি নবীনগরে টক অবদা টাউনে পরিনত হয়ে উঠে।