স্পিনের ভয় নিয়ে ঢাকায় কিউইরা

সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে শীর্ষ ৩ উইকেট শিকারিই পেস বোলার, তবুও বাংলাদেশ সফরে আসা টম ল্যাথাম ভয় পাচ্ছেন স্পিন বোলিংকেই। গতকাল সোমবার ঢাকায় পা রেখেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। দুই ভাগে ভাগ হয়ে বাংলাদেশে এসেছে কিউইরা। আসার আগে নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়ক টম ল্যাথাম জানিয়েছেন, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া আর স্পিন বোলিং খেলাটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

উপমহাদেশের কন্ডিশনেই সবশেষ দুটো সীমিত ওভারের আসরে ফাইনাল খেলেছে নিউজিল্যান্ড। আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দুই আসরেরই ফাইনালে ব্ল্যাকক্যাপরা হেরেছে ভারতের কাছে। তাই তাত্ত্বিকভাবে উপমহাদেশের কন্ডিশনে বাংলাদেশকে নিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তা থাকার কথাও নয় তাদের, বিশেষ করে বছর তিনেক আগে বাংলাদেশ সফরে এসে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটা ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। তারপরও টম ল্যাথামের স্পিন বোলিং খেলা নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ তার দলের খেলোয়াড়রা। যাদের নিয়ে নিউজিল্যান্ড গত বছর ১ বছরের কিছুটা বেশি সময়ের ভেতর পাকিস্তান, আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মাটিতে দুটো আইসিসি ইভেন্টে খেলে ফাইনালে পৌঁছেছে, সেই খেলোয়াড়দেরই দলে পাচ্ছেন না  ল্যাথাম! বলা যায়, তারা না থাকাতেই ল্যাথাম এসেছেন অধিনায়ক হয়ে। যদি নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার আইপিএলে না খেলতে যেতেন, তাহলে ল্যাথাম হয়তো একাদশেই আসতেন না। গ্লেন ফিলিপস, ড্যারিল মিচেল, ডেভন কনওয়ে, রাচিন রবীন্দ্ররা কেউই আসেননি বাংলাদেশ সফরে। উপমহাদেশের কন্ডিশনে ব্যাটিং লাইন আপের অনভিজ্ঞতা স্পষ্ট, এই দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারই শ্রীলঙ্কায় গিয়েছিলেন  নিউজিল্যান্ড ‘ এ’ দলের হয়ে। ৩-০তে সেই সিরিজটা হেরেছে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দল।

‘আমরা জানি যে স্পিন এখানে একটি বিশাল ভূমিকা পালন করে এবং এখানকার কন্ডিশন বা পরিস্থিতি নিউজিল্যান্ডের তুলনায় বেশ ভিন্ন হবে। যখন কোনো ভিন দেশের পরিবেশে খেলতে যাওয়া হয়, তখন সিরিজের শুরুটা ভালোভাবে করার জন্য ম্যাচের আগের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জরুরি যে, আমরা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিই এবং আমরা আশা করি সেটি কার্যকরভাবে করতে পারব’ দেশ ছাড়ার আগে বলেছেন ল্যাথাম।  ঢাকায় এসে মানিয়ে নেওয়ার জন্য মাত্র তিন দিনই সময় পাচ্ছেন কিউই ক্রিকেটাররা। শীর্ষ ক্রিকেটারদের না পেলেও তরুণদের নিয়ে আশাবাদী ল্যাথাম, ‘বর্তমানে বেশ কিছু খেলোয়াড় আইপিএল এবং পিএসএলে অংশ নিতে ব্যস্ত থাকায় এই সফরটি তরুণ অথবা কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের জন্য দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে। তবে স্কোয়াডের প্রত্যেক সদস্যই কোনো না কোনো সময়ে টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডে ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সবার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থাকার বিষয়টি আসন্ন সফরের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আশা করা যায়। এর মাধ্যমে এই খেলোয়াড়দের আরও অভিজ্ঞতা অর্জন দলের শক্তিমত্তা ও গভীরতা  বাড়াতে সাহায্য করবে।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে বাংলাদেশ অবশ্য পেস-সহায়ক উইকেটই বানিয়েছিল। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে রীতিমতো গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন নাহিদ রানা। প্রথম ওয়ানডেতে নিয়েছিলেন ২৪ রানে ৫ উইকেট। নাহিদ রানাকে নির্বাচকরা দলে রেখেছেন নিউজিল্যান্ড সিরিজেও। আভাষ মিলেছে এই সিরিজেও স্পোর্টিং উইকেট বানাবার। তবে বৈশাখের তপ্ত আবহাওয়া আর জ্বালানি সাশ্রয় নীতির কারণে খেলা শুরুর সময় এগিয়ে আনায় পেসারদের শরীর কতটা সায় দেবে সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। ল্যাথাম বরং স্পিনের চেয়ে ভয় করতে পারেন বৈশাখের রুদ্ররূপকে। নিউজিল্যান্ড থেকে এসে এখানে তীব্র গরমে ৫০ ওভার ফিল্ডিং করার পর ব্যাটিং করাটাই যে হবে বড় চ্যালেঞ্জ।