জাবিতে চৈত্র সংক্রান্তিতে ব্যাঙের পান-চিনি বিয়ে!

'চৈত্র সংক্রান্তি ১৪৩২’ উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পুরাতন কলাভবনের সামনে আয়োজন করা হয়েছে ব্যাঙের পানচিনি বিয়ে।‎ সোমবার (১৩এপ্রিল) কাঠ-বাঁশের ওপর কাগজ দিয়ে তৈরি করা ব্যাঙের মোটিফ দিয়ে কাল্পনিক বিয়ের আয়োজন করা হয়। এতে বর পক্ষ এবং কনে পক্ষ হিসেবে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন কলাভবন। চৈত্রের শেষ দিনে বিকেলে একটি ব্যাঙকে বর সাজিয়ে নতুন কলাভবন থেকে বিয়ের গান বাজিয়ে পুরাতন কলাভবনে নিয়ে যায় বরপক্ষ। বিয়ের রীতি অনুযায়ী গেট আটকায় কনেপক্ষ।

‎গ্রাম-বাংলার বিয়ের রীতি মতই কনেপক্ষ বরপক্ষের কাছে বিয়ের গেটে ৫০০০ স্বর্ণ-মুদ্রা দাবি করে। যেহেতু ব্যাঙের বিয়ে, তাই বরপক্ষ ৫০০০ দেশি মুদ্রা দিয়েই গেটের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর বরের আসনে গিয়ে বসে বরপক্ষ। কিছুক্ষণ পর পুরাতন কলাভবন থেকে কাগজের তৈরি কনে ব্যাঙ নিয়ে মঞ্চে আসে কনেপক্ষ। দুই পক্ষের মধ্যে তখন শুরু হয় রসিকতা ও সচেতনতামূলক বাক্যবিনিময়। ‎এইসময় বরপক্ষকে মিষ্টিমুখ করাতে দেওয়া হয় মুড়ি-বাতাসা। এরপর পুরোহিত তন্ত্রমন্ত্র পড়ে ব্যাঙের পান-চিনি (বিয়ে) সম্পন্ন করেন।‎

মূলত, চৈত্রের তপ্ত খরায় বৃষ্টির আশায় গ্রামবাংলায় প্রচলিত এক লোকজ রীতি হলো ব্যাঙের বিয়ে। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর চৈত্রের শেষ দিনে ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করা হতো। সেই লোকজ রেওয়াজ কে টিকিয়ে রাখতেই প্রতিবছর   জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ যৌথভাবে আয়োজন করে ব্যাঙের বিয়ের অভিনব অনুষ্ঠান।‎

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো মোজাম্মেল হক বলেন, ব্যাঙ আমাদের প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাণী। ব্যাঙ বৃষ্টি আসার আগ মূহুর্তে তার ডাক মাধ্যমে বৃষ্টির আগমনী বার্তা জানিতে দেয় আমাদের। প্রকৃতি, ব্যাঙ ও মানুষের এইযে বন্ধন তারই অংশ হিসেবে আমরা প্রতিবছরের শেষ দিনে ব্যাঙের পান-চিনি অনুষ্ঠান করে থাকি।  যাতে করে এই বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। এই ব্যাঙের বিয়ে ২০১৭ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও আমরা এমন আয়োজন করে যাবো।